Advertisement
E-Paper

‘জনশুনানি করে কী লাভ যদি গরিবের কথা না শোনা হয়’! বার বার প্রত্যাখ্যাত হয়ে ভোপালের জেলাশাসকের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ যুবক

প্রতি দিন যা কাজ পান তা-ই করেন দীনেশ। তা দিয়ে সংসার টানা তাঁর পক্ষে কঠিন। মাকে নিয়ে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। মাসে ৭২০০ টাকা পেনশন পান দীনেশের মা। কিন্তু সেটাও আটকে গিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২০
জেলাশাসকের দফতরে দীনেশ এবং তাঁর মা। ছবি: সংগৃহীত।

জেলাশাসকের দফতরে দীনেশ এবং তাঁর মা। ছবি: সংগৃহীত।

জেলাশাসকের দফতরের বারান্দায় অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে এক যুবক। সঙ্গে দৃষ্টিহীন এক মহিলা। তিনি ওই যুবকের মা। জেলাশাসকের বারান্দায় চিৎকার করে যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘‘জনশুনানি তো প্রতি মঙ্গলবার হয়। সপ্তাহে এক দিন সেই মঙ্গলবার আসে। এখানে কত মঙ্গলবার এসে ঘুরে গিয়েছি। কিন্তু গরিবের কথা কেউ শোনে না।’’ চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন যুবক। তাঁর মা হাত ধরে টেনে যুবককে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। যাতে সমাধান খুঁজতে গিয়ে সমস্যা আরও বেড়ে না যায়। কম্পিত হাতে তাই পুত্রকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

সম্প্রতি এমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ভোপাল জেলাশাসকের দফতর। যুবকের নাম দীনেশ প্রজাপতি। জেলাশাসকের দফতরে দৃষ্টিহীন মাকে নিয়ে পৌঁছেছিলেন বাবার পেনশন সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে। দীনেশের অভিযোগ, প্রতি মঙ্গলবার জনশুনানি হয় এখানে। নাগরিকদের সমস্যা শোনা হয়। কিন্তু সেখানে গরিব, অসহায়দের কথা পৌঁছোয় না জেলাশাসকের কানে। তিনি একের পর এক মঙ্গলবার জেলাশাসকের দফতরে ঘুরে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সমস্যা কেউই শোনার আগ্রহ দেখাননি। এমনকি খোদ জেলাশাসকও নয়। এর পরই দীনেশ প্রশ্ন তোলেন, ‘‘জনশুনানি করে কী লাভ যদি গরিব, অসহায়দের কথা না শোনা হয়।’’

এর পরই ক্ষোভে, রাগে সঙ্গে আনা নথি ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন দীনেশ। তাঁর মা কান্না জুড়ে দেন। ভয়ে কাঁপতে থাকেন পুত্রের বিপদের কথা ভেবে। এনডিটিভি-কে দীনেশ বলেন, ‘‘আমার বাবা মারা গিয়েছেন। মা চোখে দেখতে পান না। বাবার পেনশনে সংসার চলে। কিন্তু সেই পেনশনও আটকে গিয়েছে এক বছর ধরে। জেলাশাসকের দফতর থেকে বলা হয়েছে কেওয়াইসি পুরো দেওয়া নেই। পুরসভা, জ়োনাল অফিস, জেলাশাসকের দফতর ছুটে বেড়িয়েছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েছি। খাবার জোটেনি সেই দিনগুলিতে। জেলাশাসক পাশ দিয়ে চলে গেলেও আমাদের কথা শুনতে চাননি।’’

প্রতি দিন যা কাজ পান তা-ই করেন দীনেশ। তা দিয়ে সংসার টানা তাঁর পক্ষে কঠিন। মাকে নিয়ে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। মাসে ৭২০০ টাকা পেনশন পান দীনেশের মা। কিন্তু সেটাও আটকে গিয়েছে। দীনেশের এই ঘটনা নিয়ে হুলস্থুল পড়ে যায়। তার পরই তড়িঘড়ি তাঁদের সমস্যা সমাধানে তৎপর হয় প্রশাসন।

Pension
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy