তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ওই গুদামের সুপারভাইজ়ার রয়েছেন। এ ছাড়া, গুদামে কাজ করার জন্য শ্রমিক সরবরাহ করতেন— এমন দু’জনকেও ধরেছে পুলিশ।
বুধবারের ঘটনায় তারাতলা থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। বেলা ১২টা ৭ মিনিটে নির্মীয়মাণ ওই গুদামের ছাদ লোহার কাঠামো-সহ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল। নীচে চাপা পড়ে যান অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০ জন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাতের মধ্যে সুপারভাইজ়ার-সহ তিন জনকে ধরে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ গুলজ়ার। তিনিই গুদামের সুপারভাইজ়ার হিসাবে কাজ করছিলেন। এ ছাড়া, মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা ওই গুদামে শ্রমিক সরবরাহ করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
তারাতলায় উদ্ধারকাজ এখনও শেষ হয়নি। কংক্রিট এবং লোহার বিমের নীচে এখনও কেউ কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আহতদের দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন। পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর তিনিই নিশ্চিত করেছেন। শুভেন্দু জানিয়েছেন, হাসপাতালে মোট ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। ঘটনাস্থল থেকে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।
বিকেলে রাজ্য সরকারের অনুরোধে তারাতলায় উদ্ধারকাজে নামে ভারতীয় সেনা। এ ছাড়া, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে কলকাতা পুলিশ ও দমকল। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, গুদামের নির্মাণ-নকশায় ত্রুটি ছিল। কলকাতা পুরসভা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি এই নকশায় অনুমোদন দিয়েছিল বলে জানান শুভেন্দু।