দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম আলোচিত অভিনেতা রাম চরণ। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ছবি ‘পিদ্দী’। যে ছবিকে কেন্দ্র করে বিপুল আলোচনা হয়েছে। শুটিংয়ের সময়ে তো বিপদেও পড়েছিলেন অভিনেতা। ছবির সাফল্য উদ্যাপন অনুষ্ঠানে ছেলের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন বাবা চিরঞ্জীবী।
এই ছবির শুটিংয়ের সময়েই চোখে বড় চোট পেয়েছিলেন অভিনেতা। ছবিতে ‘অ্যাকশন’ দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়েই ঘটেছিল অঘটন। রাম চরণের ঘনিষ্ঠ মহলের খবর, দুর্ঘটনার ফলে চোখ নষ্ট পর্যন্ত হয়ে যেতে পারত অভিনেতার। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন অভিনেতা।
এই ঘটনার কথা মনে করেই চোখ ছলছল হয়ে ওঠে চিরঞ্জীবীর। তিনি বলেন, “শুটিংয়ের সময়ে চরণের চোখে আঘাত লাগে। আঘাতের ছবি দেখে আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আটটা সেলাই করতে হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, আঘাতটা যদি আর একটু নিচে লাগত, তাহলে চোখ হারানোর আশঙ্কা ছিল। সৌভাগ্যবশত ভ্রূর উপরে চোট লাগে। তাই বড় বিপদ এড়ানো যায়। একজন বাবা হিসাবে ভয় পাওয়ারই কথা। পরে চিকিৎসকের কথা শুনে একটু স্বস্তি পাই।”
ছেলের কঠোর পরিশ্রমেরও প্রশংসা করেন চিরঞ্জীবী। তাঁর কথায়, “চরণ এক জন তারকা অভিনেতার ছেলে। জন্ম থেকেই সে অনেক সুযোগসুবিধা পেয়েছে। চাইলে শুধু পরিচালকের নির্দেশ মেনেই কাজ করতে পারত। কিন্তু সে কখনও সহজ পথ বেছে নেয়নি। ও কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাস করে। নিজের ‘স্টান্ট’ নিজেই করতে পছন্দ করে।”
ছবির জন্য রাম চরণের শারীরিক প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন চিরঞ্জীবী। তিনি জানান, প্রতি দিন ভোর চারটেয় উঠে শারীরচর্চা করতেন রাম। তার পর শুটিংয়ে যেতেন। গভীর রাতে বাড়ি ফিরে সামান্য স্যুপ খেয়েই আবার প্রশিক্ষণে মন দিতেন। অভিনেতা যোগ করেন, “আমি ওকে জিজ্ঞেস করতাম, এত কষ্ট করার প্রয়োজন আছে কি? কিন্তু এক জন অভিনেতা হিসাবে ওর এই নিষ্ঠা দেখে আমি খুবই গর্বিত।”
এই ঘটনার সূত্র ধরে নিজের অতীতের একটি স্মৃতিও ভাগ করে নেন চিরঞ্জীবী। তিনি জানান, একসময়ে তাঁর বাবাও একটি ছবির এমনই ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। সেই সময় তাঁর বাবা বলেছিলেন, “তুমি তখনই একজন বাবার কষ্ট বুঝবে, যখন তোমার নিজের ছেলে নায়ক হবে এবং এমন ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে যাবে।” রাম চরণের দুর্ঘটনার সময়ে সেই কথাই তাঁর মনে পড়ে যায়।