Advertisement
E-Paper

সকাল থেকেই দুলছিল গুদামের ছাদ! সামাল দিতে নির্মাণকর্মীরা ভিতরে ঢোকেন, তার পরেই বিপর্যয় নেমে আসে তারাতলায়

তারাতলায় কয়েক হাজার বর্গফুট বিস্তৃত এই জমির মালিকানা রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের। একটি চা সংস্থাকে তাঁরা জমি লিজ়ে দিয়েছিলেন বলে খবর। গত দেড় বছর ধরে চায়ের গুদাম তৈরির কাজ চলছিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১৬:২৭
(বাঁ দিকে) তারাতলার গুদামের ছাদ ভেঙে পড়েছে হুড়মুড়িয়ে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থলে (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) তারাতলার গুদামের ছাদ ভেঙে পড়েছে হুড়মুড়িয়ে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থলে (ডান দিকে)। ছবি: সারমিন বেগম।

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ধসে পড়ে অনেকে জখম হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে দাবি, সকাল থেকেই দুলছিল নির্মীয়মাণ ওই কাঠামো। শ্রমিকেরা তা পরখ করতে গিয়েছিলেন। তার পরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে লোহার বিম-সহ প্রায় পাঁচ তলা উঁচু ওই কাঠামো। কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান শ্রমিকেরা। নির্মাণেই কোনও গলদ ছিল কি না, প্রশ্ন উঠেছে। তবে নির্মাণকাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত রয়েছেন, তাঁরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিকেল পৌনে ৫টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

তারাতলায় কয়েক হাজার বর্গফুট বিস্তৃত এই জমির মালিকানা রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মুন্সিগঞ্জের সংস্থা বেহরা ব্রাদার্স বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজ় নিয়েছিল। তারা অয়ন ট্রেডার্স নামের আর একটি সংস্থাকে গুদামটি তৈরির বরাত দেয়। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। বেহরা ব্রাদার্সের প্রতিনিধিদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে।

অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে তারাতলায়।

অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে তারাতলায়। ছবি: সারমিন বেগম।

স্থানীয় পোর্ট মণ্ডল-১ প্রেসিডেন্ট প্রতীক পাণ্ডে বলেন, ‘‘এখানে একটা চায়ের গুদাম তৈরি হচ্ছিল। পাঁচ তলা বহুতলের কাজ চলছিল। অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন কাজ করতেন এখানে। ঘটনার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আমি এসে পৌঁছেছি। আমরা কয়েক জনকে উদ্ধারও করেছি।’’ পোর্ট মণ্ডল-২ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আসলে পুরো কাঠামোটাই দুলছিল। কেউ কেউ বলাবলি করছিল। সেটা শুনে ওরা (শ্রমিকেরা) দেখতে এসেছিল। তখনই হঠাৎ পুরোটা বসে যায়।’’ ঘটনাস্থল থেকে কয়েক জনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতীক। সামান্য চোট ছাড়া তাঁদের বড় কোনও আঘাত লাগেনি। তবে আরও পাঁচ থেকে ছ’জনকে উদ্ধার করা হয় গুরুতর জখম অবস্থায়।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। ছবি: সারমিন বেগম।

বিপর্যয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে প্রিয়জনকে খুঁজতে আসেন অনেকে। এক যুবক জানান, তাঁর মাসি কাজ করছিলেন ওই গুদামে। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দু’ঘণ্টা ধরে তিনি মাসির খোঁজ করছেন বলে জানিয়েছেন।

লোহার বিমের নীচে চাপা পড়ে গিয়েছেন অনেকে।

লোহার বিমের নীচে চাপা পড়ে গিয়েছেন অনেকে। ছবি: সারমিন বেগম।

সূত্রের দাবি, গুদাম তৈরির জন্য লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা অনেকেই জানাচ্ছেন, সকাল থেকে কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। তাঁরা সরে যাওয়ার সুযোগও পাননি। গুদামের ভিতরে শ্রমিকদের অনেকের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাই একসঙ্গে অনেকে চাপা পড়ে যান। ছিলেন মহিলারাও।

তারাতলার ঘটনায় উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে ভারতীয় সেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। তা ছাড়া, দমকল, কলকাতা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। একাধিক হাইড্রোলিক ক্রেন সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্রেন দিয়ে লোহার বিম সরানোর চেষ্টা চলছে। ভিতরে কেউ আটকে আছেন কি না, খোঁজ নেওয়ার জন্য হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে চিৎকার করে ডাকছেন আধিকারিকেরা। ভিতর থেকে কেউ কেউ সাড়াও দিয়েছেন। গোটা গুদাম চত্বর জুড়ে কান্না আর হাহাকার। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে প্রচুর অ্যাম্বুল্যান্স। অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

তারাতলার ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে।

তারাতলার ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে। ছবি: সারমিন বেগম।

গুদাম ভেঙে পড়ার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক বাতিল করে দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে রয়েছেন পুরসভা, পুলিশ, দমকলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।

Taratala Building Collapse Kolkata Police

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy