তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ল। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেখানে অনেকে কাজ করছিলেন। ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে পড়েছেন অনেকে। শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। এখনও পর্যন্ত ৬-৭ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী।
বুধবার দুপুরে আচমকাই তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ে। সেই গুদাম তৈরির কাজ করছিলেন বেশ কয়েক জন শ্রমিক। দুর্ঘটনার কারণে ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে পড়েন তাঁরা। ঘটনা নজরে আসতে স্থানীয়েরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢালাইয়ের কাজ চলাকালীনই বিপত্তি ঘটে। সেই সময় সেখানে কাজ করছিলেন ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক। লোহার বিম কেটে শ্রমিকদের বার করে আনার কাজ শুরু করেছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা। গ্যাস কাটার দিয়ে কাটা হচ্ছে লোহার চাঁই। স্থানীয়দের দাবি, ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়া বেশ কয়েক জন শ্রমিকের আর্তনাদের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
ঘটনাস্থলে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, কলকাতার পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। —নিজস্ব চিত্র।
ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে ক্রেনও। সেই ক্রেন দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের বাইরে বার করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি জানান, উদ্ধারকাজই এখন অগ্রাধিকার। ঘটনাস্থলে রয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, কলকাতার পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহও। নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
ঘটনাস্থলে এসেছে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুল্যান্স। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিচার করে স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা, অনেকের মৃত্যু হতে পারে।
ক্রেন দিয়ে লোহার বিম সরিয়ে আহতদের উদ্ধারকাজ চলছে। —নিজস্ব চিত্র।
কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল? কেন ভেঙে পড়ল ওই নির্মীয়মাণ গুদাম? আদৌ শ্রমিকদের নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা ছিল কি না? এ হেন নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার ভারী বর্ষণের কারণে নির্মীয়মাণ অংশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেছেন কেউ কেউ।