সংসদের বিরোধীদলের নেতা দেশের পড়ুয়াদের মনে ভয় ধরিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী নেতা হিসাবে নায্য প্রশ্ন করতে গিয়ে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েই রাজনীতি করছেন রাহুল।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “বিরোধী হিসাবে তাঁর প্রশ্ন করার অধিকার অবশ্যই আছে। কিন্তু তাই বলে তিনি অহেতুক কারণে পড়ুয়াদের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে পারেন না।” এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এক পরীক্ষার্থী নিজেই নাগপুরের বদলে আবু ধাবিকে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন, পরে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) সংশোধন করে নাগপুরের কেন্দ্রেই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেয় তাঁকে। এর পরেও কংগ্রেস সাংসদ ওই বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে সমাজমাধ্যমে লেখেন। সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়ার পরেও বিতর্ক তৈরির চেষ্টার জন্য সাংসদের ক্ষমাও চাওয়া উচিত।”
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ের আগে পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছোনোর বিষয়ে একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছিল এনটিএ। তার পরেও পথদুর্ঘটনা কিংবা যানজট সমস্যার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে সঠিক সময়ে পৌঁছোতে পারেননি অনেকেই। ফলস্বরূপ, চলতি বছরের পুনঃপরীক্ষা তাঁরা দিতে পারেননি। পরীক্ষাকেন্দ্রেই পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকদেরও কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছিল।
দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের সীমানায় ওখলায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’র (এনটিএ) সদর দফতর থেকে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৬০টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন কেন্দ্রে নজরদারি চলেছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও।
আরও পড়ুন:
সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গেই পরীক্ষার্থীদের দায়বদ্ধতাও নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি বলেন, “বাবা হিসাবে সেই ছবি ব্যক্তিগত ভাবে দুঃখজনক বলে মনে হয়েছে। কিন্তু হাতে সময় থাকা সত্ত্বেও অনেকেই পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে এসেছেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিয়ম মেনে চলাটা পরীক্ষার্থীদের দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে।”
উল্লেখ্য, বিভিন্ন রাজ্যের তরফে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যদিও বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক সমাবেশের কারণে বিভিন্ন রাস্তায় যানজটের মুখে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। তাঁরা নির্ধারিত সময়ের পর আসা সত্ত্বেও পরীক্ষা দিতে পেরেছিলেন।
এ ছাড়াও সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, “যাঁরা দেশকে টুকরো টুকরো করতে চান, তাঁরাই যন্তরমন্তরে বসে ড্রাম বাজাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কি কোনও পড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন?” উল্লেখ্য, নিট-এ প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় অব্যবস্থা, নিয়োগে দুর্নীতির মতো একাধিক অভিযোগে সরব হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই নিয়ে দলের তরফে যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। সেই কর্মসূচি থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন দলের সদস্যেরা।