Advertisement
E-Paper

নীরবে শরীরে দানা বাঁধে মারণরোগ! ডান দিকের কোলন ক্যানসার কেন বেশি বিপজ্জনক? সতর্ক হবেন কী ভাবে

দীর্ঘ দিন ধরে শরীরের ভিতরে বেড়ে উঠতে পারে, কিন্তু শুরুতে তেমন কোনও স্পষ্ট লক্ষণ চোখে পড়ে না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই ডান দিকের কোলন ক্যানসার রোগটি ধরা পড়ে দেরিতে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৫
কোলন ক্যানসারের ঝুঁকির আশঙ্কা?

কোলন ক্যানসারের ঝুঁকির আশঙ্কা? ছবি: সংগৃহীত।

দু’ভাবে শরীরে দানা বাঁধে কোলন ক্যানসার। বাঁ দিকে ও ডান দিকে। দু’টির প্রকৃতিও ভিন্ন। তবে ডান দিকের ক্যানসার বেশি বিপজ্জনক বলা হয় কেন, তা জানেন কি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র তথ্য অনুযায়ী, কোলন ক্যানসার কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসারগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। কিন্তু সে বিষয়ে যথেষ্ট সচেতনতা এখনও তৈরি হয়নি। বাঁ দিকের কোলন ক্যানসার খুবই সাধারণ একটি রোগ। কিন্তু ডান দিকের ক্যানসার তুলনামূলক ভাবে কম হলেও বিরল নয়। কিন্তু সমস্যা হল, ডান দিকের ক্যানসার নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে। ফলে শনাক্তকরণের কাজ অনেকটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই ‘সাইলেন্ট কোলন ক্যানসার’কেও চিনে নেওয়া দরকার একই সঙ্গে।

দীর্ঘ দিন ধরে শরীরের ভিতরে বেড়ে উঠতে পারে, কিন্তু শুরুতে তেমন কোনও স্পষ্ট লক্ষণ চোখে পড়ে না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই ডান দিকের কোলন ক্যানসার রোগটি ধরা পড়ে দেরিতে। আজকাল পেটের সমস্যা, পেটফাঁপা বা ক্লান্তিকে খুব সহজেই ‘সাধারণ’ বলে এড়িয়ে যান অনেকে। আর সেখানেই লুকিয়ে থাকে ঝুঁকি। ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘ক্ষুদ্রান্ত্রে খাবার থেকে মল যখন তৈরি হয়, তখন সেটি তরল আকারে থাকে। তার পর কোলনের রাস্তা দিয়ে সেটি নীচে নামে, ধীরে ধীরে তরল অংশটি শোষিত হতে থাকে। তার পর যে অংশটি ঘনীভূত হয়ে শক্ত হয়ে পড়ে থাকে, সেটিই মল হিসেবে আমাদের দেহের বাইরে বেরোয়। এ বার কোলনের ডান দিকে মল বেশি দিন পর্যন্ত তরল আকারে থাকে। ফলে সেখানে কোনও রকমের টিউমার বা তেমন কিছু তৈরি হলে, সহজে ধরা পড়ে না। তরল হিসেবে মল বেরোতে কোনও অসুবিধা হয় না।’’ কিন্তু বাঁ দিকে মলের তরল অংশ দ্রুত শোষিত হয়ে গিয়ে শক্ত হয়ে যায়। তাই বাঁ দিকের কোলনে কোনও টিউমার তৈরি হলে মল আটকে গিয়ে তাড়াতাড়ি রোগ শনাক্ত হয়ে যায়। তাই জন্য ডান দিকে ক্যানসারের বাড়বৃদ্ধি শুরু হলেও ধরা পড়ে দেরিতে।

কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি।

কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

তা ছাড়া কোলনের ডান দিক তুলনামূলক ভাবে চওড়া হয়। ফলে এখানে টিউমার বড় হলেও মলের গতিপথে তেমন বাধা তৈরি হয় না। তাই ব্যথা, ব্লকেজ বা দৃশ্যমান সমস্যা অনেক সময় থাকে না। অন্য দিকে, বাম দিকের কোলনে জায়গা কম হওয়ায় সেখানে সামান্য পরিবর্তনও দ্রুত ধরা পড়ে।

সে ক্ষেত্রে কী ভাবে ডান দিকের কোলন ক্যানসার সম্পর্কে সতর্ক হওয়া যায়?

১. ডান দিকের কোলনে টিউমার থাকলে ধীরে ধীরে ভিতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। মল দিয়ে রক্তপাত হয় না এ ক্ষেত্রে। ফলে শরীরে রক্তাল্পতা তৈরি হয়, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২. পেটফাঁপা, হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি, এ সবকে অনেক সময় গ্যাস বা হজমের সমস্যা বলে উড়িয়ে দেন অনেকে। কিন্তু এই উপসর্গ যদি দীর্ঘ দিন ধরে থেকে যায়, তা হলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

৩. কোনও ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়া হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া রোগের একটি বড় সঙ্কেত। এটি অনেক সময়ে ক্যানসারের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। আচমকা ৪-৫ কেজি ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

৪. ডায়েরিয়া, অনিয়মিত মলত্যাগ, বা মলত্যাগের পর পুরোপুরি পেট পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি যদি দীর্ঘ দিন ধরে থেকে যায়, তা হলে নজর দেওয়া উচিত। ২-৩ সপ্তাহের বেশি দেরি করা উচিত নয়।

৫. শরীরে সব সময় ক্লান্তি থাকলেও সতর্ক হতে হবে। কাজে উৎসাহ বা গায়ে বল কমে যাওয়ার মতো সাধারণ ঘটনাতেও লুকিয়ে থাকতে পারে ক্যানসারের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি রক্তাল্পতা তৈরি হয়ে থাকে, তা হলে এই উপসর্গ দেখা যাবেই।

Symptoms of Colon Cancer Colon Cancer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy