ডাল-ভাতে অভ্যস্ত বাঙালির পাতে অধিকাংশ দিনই ভাতের পাশে মুসুর ডাল থাকে। এমন নয় যে, মুগ, মটর, অড়হর, বিউলি বা ছোলার ডাল খাওয়া হয় না। তবে মুসুর ডাল খাওয়া হয় তুলনায় বেশি। কারণ, প্রথমত, এই ডাল সুস্বাদু এবং সহজলভ্য। তা ছাড়া এর প্রোটিনের মাত্রাও বেশি এবং অধিকাংশের কাছে সহজপাচ্য। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে মুসুর ডাল উপকারের চেয়ে ক্ষতি করতে পারে বেশি! আর তার যথেষ্ট কারণও আছে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন অস্ট্রেলিয়া নিবাসী এক ভারতীয় পুষ্টিবিদ অমিত ভরদ্বাজ। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে তিনি বলেছেন, ‘‘দৈনন্দিন যে সব খাবার খাওয়া হয়, তার প্রত্যেকটিই কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ভিটামিন, প্রোটিন, খনিজ, ফাইবার, শর্করার সমাহার। ওই সমস্ত পুষ্টিগুণ সবার জন্য সব সময় সমান উপকারী না-ও হতে পারে। যেমন, আয়রন কারও রক্তাল্পতার সমস্যা কমালেও কারও কারও শরীরে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। ডালের বিষয়টিও তেমনই।’’
কাদের মুসুর ডাল এড়িয়ে চলা উচিত?
পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন মুসুর ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভাল উৎস হলেও তাতে থাকা কিছু পুষ্টি উপাদান কারও কারও শরীরে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
১. ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা
যাঁদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি বা যাঁরা গাউট বা গাঁটের বাতের ব্যথায় ভুগছেন, তাঁদের মুসুর ডাল এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ হিসাবে অমিত বলছেন, ‘‘মুসুর ডালে ‘পিউরিন’ নামে এক ধরনের উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে। শরীর যখন এই পিউরিন ভাঙে, তখন ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা অস্থিসন্ধিতে জমে ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।’’
আরও পড়ুন:
২. কিডনির সমস্যা
যাঁদের কিডনিতে স্টোন হয়ছে বা কিডনির অন্য সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্যও মুসুর ডাল ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, মুসুর ডালে অক্সালেট থাকে যা কিডনিতে স্টোন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া, কিডনি ঠিক মতো কাজ না করলে ডালে থাকা পটাশিয়াম এবং প্রোটিন রক্তে জমা হতে থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
৩. হজমের সমস্যা
যাঁদের খুব সহজে গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার সমস্যা হয়, তাঁদেরও মুসুর ডাল কম খেতে বলছেন পুষ্টিবিদ। তিনি জানাচ্ছেন, মুসুর ডালে প্রচুর ফাইবার থাকে। থাকে শর্করাও। যা সহজে হজম হতে চায় না এবং অন্ত্রে দীর্ঘ ক্ষণ জমে থাকলে গেঁজিয়ে উঠে গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।