Advertisement
E-Paper

অবসরে এক ‘অদ্ভুত’ পানীয়ে গলা ভেজান ফুটবলার মেসি! তা কি স্বাস্থ্যকর? যে কেউ খেতে পারেন?

খেলার ব্যস্ততা সামলে সময় পেলে তাঁর অবসর কাটে মায়ামির সৈকতে। সেই সময় দৈনন্দিন রুটিনও ভাঙেন তিনি। হাতে থাকে পানীয়ের গ্লাস। পায়ে বালি আর পিঠে রোদ্দুর। নিখাদ ছুটির ওই মেজাজে অবশ্য মেসির সঙ্গে তাঁর স্ত্রী বা সন্তানেরা থাকে না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২২

ছবি : সংগৃহীত।

ছ’মাস পরেই ফুটবল বিশ্বকাপ! আর আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন এই ভেবে যে, এ বারও বিশ্বকাপে খেলবেন তাঁদের স্বপ্নের তারকা লিয়োনেল মেসি। ৩৮ বছরের ফুটবল তারকার ফিটনেস এখনও তুঙ্গে বলেই মত তাঁর ভক্তদের। কারণ, শরীরচর্চা থেকে শুরু করে ডায়েট, সবেতেই নিজেকে কড়া শৃঙ্খলে বেঁধে রাখেন মেসি। তবে সম্প্রতি মেসি জানালেন, সেই নিয়ম ভাঙলে কী ভাবে অবসর উপভোগ করেন তিনি।

দেশের হয়ে বড় টুর্নামেন্টে খেলার পাশাপাশি পুরোদমে ক্লাব ফুটবলও খেলেন আর্জেন্টিনার তারকা। আপাতত তিনি ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যামের টিম ইন্টার মায়ামি সিএফের হয়ে খেলছেন। থাকেনও মায়ামিতে। এক সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছেন, খেলার ব্যস্ততা সামলে সময় পেলে তাঁর অবসর কাটে মায়ামির সৈকতে। সেই সময় দৈনন্দিন রুটিনও ভাঙেন তিনি। হাতে থাকে পানীয়ের গ্লাস। পায়ে বালি আর পিঠে রোদ্দুর। নিখাদ ছুটির ওই মেজাজে অবশ্য মেসির সঙ্গে তাঁর স্ত্রী বা সন্তানেরা থাকে না। মেসি বলছেন, ‘‘বাড়িতে সন্তানদের সঙ্গে খেলতে খেলতেও মাঝে মধ্যে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি। তখন শুধু নিজের সঙ্গে একটু সময় কাটানোর ইচ্ছে হয়।’’ এই একান্ত যাপনে মেসির সঙ্গী হয় কোনও বই আর ওয়াইনের গ্লাস। তবে মেসি শুধুই ওয়াইন খান না!

ফুটবল তারকা বলছেন, ‘‘আমি ওয়াইন পছন্দ করি। তবে সাধারণত ওয়াইন শুধু খাই না। ওয়াইনের সঙ্গে স্প্রাইট বা সোডা জাতীয় কিছু মিশিয়ে নিই। ওটায় চুমুক দিলে মেজাজটা একটু জলদি খোলে।’’

মায়ামির সৈকত আর পানীয়ের গ্লাসে অবসর যাপন মেসির।

মায়ামির সৈকত আর পানীয়ের গ্লাসে অবসর যাপন মেসির।

আঙুর মজিয়ে তৈরি করা পানীয় ওয়াইন সুরাপ্রেমীদের প্রিয় তার হালকা মিষ্টি স্বাদ, গন্ধ আর মেজাজ ভাল করে দেওয়া গুণের জন্যই। তবে মেসি বলছেন, ‘‘আমি জানি ব্যাপারটা খুবই অদ্ভুত। আর আমি আরও অদ্ভুত। আমি একা থাকতে ভালবাসি। আর একা থাকলে এই পানীয়ই আমার পছন্দ।’’ মেসি ওই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আর্জেন্টিনার একটি চ্যানেল লুজ়ু টিভিকে। আর তাতে মেসির পছন্দের পানীয়ের কথা শুনে চমকে গিয়েছেন ভক্তেরা।

খেলোয়াড়েরা সাধারণত ফিট থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করেন। সেখানে সুরা এবং সোডা— দু’টিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তা হলে মেসি ওই দুই পানীয় খাচ্ছেন কী ভাবে? তবে কি সাধারণ মানুষও ওই পানীয় খেতে পারেন? উত্তর খুঁজতে পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। তিনি বললেন, ‘‘সোডা এবং ওয়াইন কোনওটিই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। দু’টিই ক্ষতিকর। তাই মেসি খাচ্ছেন বলেই সবাই নিয়ম করে তা খেতে শুরু করলে মুশকিল।’’

একান্ত যাপনে স্ত্রী-ও সঙ্গী হন না মেসির।

একান্ত যাপনে স্ত্রী-ও সঙ্গী হন না মেসির।

কেন এটি দ্রুত মেজাজ ভাল করতে পারে?

মেসি জানিয়েছেন, তাঁর মেজাজ দ্রুত ভাল করার জন্য তিনি ওয়াইনে সোডা মিশিয়ে খান। কেন এমন হয়, তার ব্যাখ্যা করে শ্রেয়া বলছেন, ‘‘সোডায় থাকে কার্বোনেটেড ওয়াটার আর চিনি। আর ওয়াইন খেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন ক্ষরণ হয়। দু’টি এক সঙ্গে মিশলে তা রক্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত মেজাজ ভাল করতে সাহায্য করে ঠিকই। কিন্তু পুরোটাই সাময়িক। কিছু ক্ষণের মধ্যে তা থেমেও যায়।’’

এ থেকে কি কোনও ক্ষতি হতে পারে?

মেসির মতো এক জন ফুটবল তারকা যা খাচ্ছেন, তা থেকে কি সত্যিই কোনও ক্ষতি হতে পারে? পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, হতে পারে নয় হবেই। নিয়মিত সুরাপান করলে তা থেকে মেজাজ ভাল হওয়ার বদলে হতাশাই গ্রাস করতে পারে। হতে পারে অ্যানোরেক্সিয়া। তবে মেসির ক্ষেত্রে এমন না-ও হতে পারে।

শ্রেয়ার মতে, ‘‘মেসি একজন ব্যস্ত খেলোয়াড়। তিনি নিজের জন্য এমন সময় হয়তো মাসে এক বার পান। বাকি সময় কড়া নিয়মে থাকেন। নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। সব রকম পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খান। তাই মেসি এক দিন সুরাপান করলে বা সোডাপান করলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।’’ তাই শ্রেয়ার পরামর্শ, ‘‘মেসি এক দিন যা করেন তা অনুসরণ করার আগে তিনি বাকি দিনে কী করেন সেটা মেনে চলা সবার আগে জরুরি। তা যদি মানতে পারেন, তবে মাসে এক দিন অল্প ওয়াইন বা সোডা খেতেই পারেন।’’

Lionel Messi Drinking Mistakes Drinking Habit
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy