শীত এলেই ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বাড়ে, সে ধারণা এখন অতীত। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এত দ্রুত তার চরিত্র বদলে ফেলছে, যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-ও রীতিমতো উদ্বিগ্ন। ভাইরাসের জিনে রাসায়নিক বদল চলছে। ইনফ্লুয়েঞ্জারও নতুন নতুন উপরূপের জন্ম হচ্ছে। একে ঠেকাতে না পারলে সমূহ বিপদ। হু সতর্ক করে জানিয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং বি উপরূপের পাশাপাশি ‘সাবক্ল্যান্ড কে’ ভাইরাসেরও জন্ম হয়েছে। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার চেয়ে যা আরও বেশি মারাত্মক।
কোভিডের মতো ইনফ্লুয়েঞ্জাও আগামী দিনে বিশ্ব ব্যাপী স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করতে পারে বলেই দাবি হু-র। এর তিন কারণ উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথমত, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মিউটেশন (জিনগত বদল) খুব দ্রুত ঘটে, দ্বিতীয়ত, পশুপাখির শরীর থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে তাড়াতাড়ি কব্জা করে ফেলতে পারে। বার্ড ফ্লু তার অন্যতম বড় উদাহরণ। এটিও আসলে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরই রূপ। তৃতীয়ত, ইনফ্লুয়েঞ্জা কেবল সর্দি-জ্বর নয়, একই সঙ্গে নিউমোনিয়া, হৃদ্রোগ ও মাল্টি-অর্গ্যান ফেলিয়োরের কারণ হতে পারে।
ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিয়ে নির্দেশিকা
সিওপিডি, হাঁপানির রোগ আছে বা ফুসফুসের রোগ থাকলে ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের নির্দেশিকায় জানিয়েছে, ৬ মাসের শিশু থেকে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ— ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন:
৬ মাস থেকে ৮ বছর বয়স অবধি দু’টি ডোজ়ে টিকা নিতে হবে। প্রথম ডোজ়ের ৪ সপ্তাহ পরে দ্বিতীয়টি নিতে হবে। পরের বছর থেকে প্রতি বছর মাত্র একটি করে বুস্টার ডোজ় নিলেই চলবে।
৯ বছর বা তার বেশি বয়সে প্রতি বছর একটি করে ডোজ়ই নিতে হবে।
বাজারে এখন যে ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাগুলি আছে সেগুলি ০.৫ মিলি ডোজ়ে নিতে হয়। দেশে তিনটি ব্র্যান্ডের টিকা বেশি পাওয়া যায়, সেগুলির খরচ ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে।
কখন নিতে হবে?
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ঘন ঘন রূপ বদল করে। তাই প্রতি বছরই টিকা নিতে হবে। এটি নেওয়ার আদর্শ সময় হল বর্ষার আগে এপ্রিল থেকে জুন মাসে এবং শীতে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে।
টিকা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। খাবারে অ্যালার্জি থাকলে অথবা দীর্ঘকালীন কোনও ক্রনিক রোগের ওষুধ খেলে, টিকা নেওয়ার আগে চিকিৎসককে দেখিয়ে নেওয়া জরুরি।