Advertisement
E-Paper

ডায়াবিটিসে আক্রান্ত? গোটা ফল না কি ফলের রস, ডায়াবেটিকদের জন্য কোনটা বেশি স্বাস্থ্যকর?

ডায়াবিটিসের রোগীরা যে কোনও ফল খেতে পারেন না। রক্তে শর্করার মাত্রা বুঝে ও শারীরিক অবস্থা বিচার করে তবেই খাওয়া উচিত। অনেকেই আছেন যাঁরা সকালের জলখাবারের পর এক গ্লাস ফলের রস খেয়ে নেন স্বাস্থ্যকর ভেবে। তবে ডায়াবেটিকদের জন্য কি এই অভ্যাস আদৌ স্বাস্থ্যকর?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫১
ডায়াবেটিকরা কি ফলের রস খেতে পারেন?

ডায়াবেটিকরা কি ফলের রস খেতে পারেন? ছবি: সংগৃহীত।

ডায়াবিটিস ধরা পড়লে অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে রাশ টানতে হয় খাওয়াদাওয়ায়। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করলে ইচ্ছামতো সব খাবার খাওয়া যায় না। মিষ্টি তো বটেই, সেই সঙ্গে বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া একেবারেই বন্ধ। অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, ডায়াবিটিসে ফল খাওয়া যায় কি না। মরসুমি টাটকা ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তবে ডায়াবিটিসের রোগীরা যে কোনও ফল খেতে পারেন না। রক্তে শর্করার মাত্রা বুঝে ও শারীরিক অবস্থা বিচার করে তবেই খাওয়া উচিত। অনেকেই আছেন যাঁরা সকালের জলখাবারের পর এক গ্লাস ফলের রস খেয়ে নেন স্বাস্থ্যকর ভেবে। তবে ডায়াবেটিকদের জন্য কি এই অভ্যাস আদৌ স্বাস্থ্যকর?

গোটা ফলে প্রাকৃতিক শর্করার পাশাপাশি জল, ফাইবার এবং উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার আকস্মিক বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদ রূপালি দত্তের মতে, “যখন ফল গোটা খাওয়া হয়, তখন ফাইবার একটি প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে, যা শর্করাকে ধীরে ধীরে শোষিত হতে দেয়। তবে ফলের রসে ফাইবার থাকে না। তাই রস খেলে রক্তে গ্লুকোজ়ের মাত্রা এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যায়।”

সারা আলি খান, অনন্যা পাণ্ডে, জাহ্নবী কপূরের পুষ্টিবিদ সিদ্ধান্ত ভার্গবের মতে, ফলের রস আর চিনিগোলা রঙিন জলের মধ্যে খুব বেশি তফাত নেই। কারণ দু’টিই শরীরে এক ধাক্কায় চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

কেন এটি ক্ষতিকর?

ওজন ঝরানোর চেষ্টা করছেন যাঁরা বা যাঁরা ডায়াবিটিসের রোগী, অথবা যাঁরা শরীর সম্পর্কে সচেতন, তাঁরা জানেন, শরীরের অর্ধেকের বেশি অসুস্থতার মূলে এই ‘ব্লাডসুগার স্পাইক’, অর্থাৎ এক ধাক্কায় রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকখানি বেড়ে যাওয়া। এটি নিয়মিত হতে থাকলে রক্তে শর্করা ভাঙার কাজ করে যে ইনসুলিন, যা শর্করাকে ভেঙে শক্তিতে পরিণত করে, তা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। একে বলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। এমন হলে শুধু ওজনবৃদ্ধি বা ডায়াবিটিসের সমস্যা নয়, লিভার, কিডনি, হার্টের সমস্যাও হতে পারে। সিদ্ধান্তও সে কথাই বলেছেন। যার জন্য ফলের রস খেতে বারণ করছেন তিনি।

বিষয়টি আরও একটু বুঝিয়ে তিনি বলছেন, ফলের রস তৈরি করার সময় ফলের জরুরি ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। প্রক্রিয়াকরণের সময় অতিরিক্ত চাপে এবং গরমে ভিটামিন এবং খনিজও নষ্ট হয়। ফলে যে ভিটামিন এবং খনিজ থাকে, তার বেশিটাই আর অবশিষ্ট থাকে না ফলের রসে।

ডায়াবেটিকদের যেমন ফল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, তেমনই ফলের রস খাওয়ার আগেও দশ বার ভাবতে হবে। ডায়াবেটিকদের জন্য ফলের রস না খাওয়াই ভাল। পুষ্টিবিদদের মতে ডায়াবেটিকরা পেয়ারা, পেঁপে, আপেল, নাসপাতির মতো ফল পরিমিত মাত্রায় খেতেই পারেন।

Diabetic Care Tips For Diabetes Control
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy