বর্তমান প্রসাধনী বিশ্বে 'ক্লিন বিউটি' বা 'ক্লিন পারফিউম' শব্দবন্ধটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্লিন মানে পরিচ্ছন্ন বা পরিশোধিত। কিন্তু পারফিউম ক্লিন হয় কী করে? আর যদি পরিশোধিত বা ক্লিন পারফিউম বলে আলাদা সুগন্ধী থাকে। তবে বাকি সুগন্ধী কি দূষিত। তা কি শরীরের কোনও ক্ষতি করে? প্রতি দিন যে সাধারণ পারফিউম ব্যবহার করেন, তার সুগন্ধ সতেজ রাখলেও তা ত্বকের জন্য সবসময় নিরাপদ নয়।
সাধারণ পারফিউম যেভাবে ক্ষতি করে
১. সিন্থেটিক সুগন্ধি ও অ্যালার্জি: সাধারণ পারফিউমে কয়েকশ অজ্ঞাত রাসায়নিক থাকতে পারে, যা শুধু ‘ফ্র্যাগরেন্স’ হিসেবে লেবেলে উল্লেখ করা হয়। এই রাসায়নিকগুলো ত্বকের সংস্পর্শে এলে কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস, লালচে ভাব, চুলকানি এবং র্যাশের সৃষ্টি করতে পারে।
২. থ্যালেটস এর প্রভাব: সুগন্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে থ্যালেটস ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বকের মাধ্যমে শোষিত হয়ে শরীরে প্রবেশ করে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
৩. অ্যালকোহল : পারফিউমে উচ্চমাত্রায় ইথাইল অ্যালকোহল থাকে। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তৈলাক্ত স্তর বা লিপিড ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করে ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক ও সংবেদনশীল করে তোলে।
৪. ফটোসেনসিটিভিটি: কিছু রাসায়নিক সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির সাথে বিক্রিয়া করে ত্বকে কালো দাগ বা পিগমেন্টেশন তৈরি করতে পারে।
কেন ‘ক্লিন পারফিউম’ বেছে নেবেন?
ক্লিন পারফিউম মূলত ক্ষতিকারক প্যারাবেন, থ্যালেটস এবং সিন্থেটিক মাস্ক মুক্ত হয়। এগুলোতে প্রাকৃতিক এসেনশিয়াল অয়েল এবং উদ্ভিদজাত উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে।
সতর্কতা
পারফিউম সরাসরি ত্বকে ব্যবহার না করে কাপড়ে স্প্রে করা কিছুটা নিরাপদ। তবে সংবেদনশীল ত্বক হলে সবসময় ‘হিপোঅ্যালার্জেনিক’ বা ক্লিন পারফিউম বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।