মন খারাপের দিনে এক টুকরো ডার্ক চকলেট মুহূর্তেই মন চাঙ্গা করে দেয়, এতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, চকোলেট ছাড়াও চারপাশে এমন অনেক খাবার আছে যা প্রাকৃতিকভাবে শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’— সেরোটোনিন ও ডোপামিন ক্ষরণ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা কাটাতে ডায়েটে যোগ করা যেতে পারে তেমনই কিছু খাবার।
১. কলা ও বেরি জাতীয় ফল
কলা ভিটামিন বি৬-এর চমৎকার উৎস, যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন তৈরিতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ও ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রেখে মেজাজ ভালো রাখে। ব্লুবেরি বা স্ট্রবেরির মতো ফলগুলোতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর।
২. বাদাম ও বীজ
কাঠবাদাম, আখরোট এবং কুমড়োর বীজে থাকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম উদ্বেগ কমাতে এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করে, যা পরোক্ষভাবে মন ভালো রাখার প্রধান শর্ত।
৩. দই ও প্রোবায়োটিকস
আমাদের মস্তিষ্কের সাথে পাকস্থলীর গভীর সংযোগ রয়েছে। টক দই বা প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, যা সরাসরি মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর অন্ত্র দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।
৪. ওটস ও শস্যদানা
ওটস হলো একটি লো-গ্লাইসেমিক কার্বোহাইড্রেট যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। এটি রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠা-নামা নিয়ন্ত্রণ করে বিরক্তি ভাব কমায়।
৫. সামুদ্রিক মাছ
যাঁরা আমিষ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য সামুদ্রিক মাছ (যেমন স্যামন বা টুনা) খুব উপকারী। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বিষণ্ণতা দূর করতে ক্লিনিক্যালি প্রমাণিত।
মনে রাখা জরুরি
খাবার সাময়িকভাবে মন ভালো করতে পারলেও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পরের বার মন খারাপ হলে শুধু মিষ্টির ওপর নির্ভর না করে এক বাটি দই বা একমুঠো বাদাম খেয়ে দেখতে পারেন; আপনার শরীর ও মন উভয়ই ধন্যবাদ দেবে!