শীতের নতুনগুড়ের সঙ্গে ভাজাবাদাম মাখিয়ে তৈরি করা হয় গুড় বাদাম। তার নানা রূপ এবং নাম রয়েছে। কোথাও বাদাম পাটালি, কেউ বলেন বাদাম চাক বা বাদাম তক্তি, গুড়-বাদাম, চিক্কি ইত্যাদি। স্বাদ নিয়ে কথা হবে না। তবে শীতকালীন ওই মিষ্টি কি স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল? অহমদাবাদের এক স্ত্রী রোগ চিকিৎসক রীতা শাহ জানাচ্ছেন, শীতে গুড়ের সঙ্গে বাদাম খাওয়ার অনেক রকম উপকারিতা রয়েছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য এই খাবার অত্যন্ত পুষ্টিকর।
গুড় আর বাদাম একসঙ্গে খেলে শরীরে কী কী পুষ্টি যাচ্ছে, তা সবিস্তারে জানিয়েছেন চিকিৎসক। বলছেন, ‘‘গুড় এবং বাদামে রয়েছে আয়রন, প্রোটিন, ক্যালশিয়াম ম্যাগনেশিয়াম, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিভিন্ন ধরনের জরুরি বি ভিটামিন এবং ভিটামিন ই, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসাবেও কাজ করে। তাই শীতে গুড় বাদাম খেলে তা স্বাস্থ্যের উন্নতিই করবে।’’
কী কী উপকার করতে পারে গুড় আর বাদাম?
শরীর গরম রাখে
বাদাম এবং গুড়—উভয়ই শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে। গুড় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বাদামের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তি বা এনার্জি বজায় রাখে, যা শীতের কনকনে ভাব কাটিয়ে শরীরকে ভিতর থেকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
শীতকালে সর্দি-কাশি ও ফ্লু হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। গুড়ে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং জ়িঙ্ক আর বাদামের ভিটামিন ই এবং প্রোটিন এক যোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে।
রক্তস্বল্পতা দূর করে
যাঁদের হিমোগ্লোবিন কম, তাঁদের জন্য গুড় ও বাদামের মিশ্রণ ওষুধের মতো কাজ করে। কারণ, দু’টি খাবারই আয়রনে ভরপুর যা রক্তে লোহিত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যা রক্তাল্পতার সমস্যা মেটানোর জন্য জরুরি।
হজমশক্তি বৃদ্ধিতে
শীতকালে সাধারণত জল কম খাওয়া এবং আরও নানা কারণে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা মন্থর হয়ে যায়। খাওয়ার পরে সামান্য গুড় খেলে তা এনজাইম নিঃসরণে সাহায্য করে, যা হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। অন্য দিকে বাদামে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকরী।
অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য ভাল
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গুড় এবং বাদাম খেলে তা শিশুর মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের বিকাশে সাহায্য করে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসক।
সতর্কতা
বাদাম ও গুড় উপকারী হলেও এতে ক্যালোরির মাত্রা বেশি থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এবং ডায়াবেটিস থাকলে পরিমিত হারে খাওয়া উচিত।