ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে বেশির ভাগ ভারতীয় পড়ুয়াকেই নিরাপদে বার করে আনা গিয়েছে। এ কথা মঙ্গলবার জানাল বিদেশ মন্ত্রক। খুব কম সংখ্যক পড়ুয়া এখনও সেখানে আটকে রয়েছে। সে দেশে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অন্য দিকে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য, বিশেষত, ওই পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যে কতটা বাধা আসছে, তা নজরে রাখার জন্য মন্ত্রিগোষ্ঠীকে দায়িত্ব দিল কেন্দ্রীয় সরকার। তারা নিয়মিত বৈঠক করে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে।
তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, সে শহরে বিপদ ক্রমেই বাড়ছে। সেই পরিস্থিতি নজরে রেখেই ভারতীয় পড়ুয়াদের বেশির ভাগ জনকে শহর থেকে বার করে আনা হয়েছে। তাদের যাতায়াত, খাবার এবং থাকার ব্যবস্থাও করেছে বিদেশ মন্ত্রক। তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ‘‘মাত্র কিছু সংখ্য ভারতীয় পড়ুয়াই এখনও সে শহরে আটকে রয়েছেন, যাঁরা দূতাবাসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।’’
ভারতীয় দূতাবাস আরও জানিয়েছে, তেহরানে এখনও যে ভারতীয় পড়ুয়ারা এবং নাগরিকেরা আটকে রয়েছেন, তাঁদের আগে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও প্রযোজ্য। নির্দেশিকায় তেহরানে বসবাসকারী ভারতীয়দের বলা হয়েছে, ‘যেখানে রয়েছেন, সেখানেই থাকুন। যতটা সম্ভব ঘরের ভিতরেই থাকুন। জানলা থেকে দূরে থাকুন।’ ভারতীয় দূতাবাস নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করে আরও জানিয়েছে যে, ইরানের যে সব জায়গায় বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ চলছে, সেই জায়গা এড়িয়ে চলাই ভাল। নিয়মিত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, ইরানে প্রায় পড়ুয়া-সহ ৯০০০ ভারতীয় আটকে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কত জন পড়ুয়া, তা স্পষ্ট নয়।
অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল পিটিআই-কে জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নজরে রাখার জন্য মন্ত্রিগোষ্ঠীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিয়মিত বৈঠক করে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। সেখানের বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের আমদানি, রফতানি, জাহাজ-যোগাযোগে কতটা পড়ছে, তা দেখা হবে।
গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে হামলা চালায় ইরানে। হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। হামলার প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠেই প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরান। শুধু ইজ়রায়েলে নয়, পশ্চিম এশিয়ায় যে দেশগুলিতে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে— প্রায় সব দেশেই হামলা করেছে তেহরান। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, বাহরিন, কুয়েত, ইরাক, সিরিয়া, জর্ডনে হামলা চালায় তেহরান। এর মধ্যে বহু হামলা প্রতিহতও করেছে আমেরিকার ‘বন্ধু’ দেশগুলি। ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মঙ্গলবার ৭৩৭।