দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলই পুড়ছে গরমে। এই কাঠফাটা গরমে আমাদের যেমন প্রাণ ওষ্ঠাগত তেমনই বাড়ির ছাদে বা উঠোনে থাকা গাছগুলিও ঝিমিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বাড়ির তুলসীগাছটি। তীব্র গরমে তুলসীকে বাঁচিয়ে রাখাই কষ্টকর। তুলসীগাছ যদি কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ শুকিয়ে যায়, তা হলে সেটিও অমঙ্গলের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়। তবে গ্রীষ্মকালে তুলসীগাছ শুকিয়ে গেলে তা ফেলে দেওয়ার মত ভুল কাজ করবেন না।
হিন্দুশাস্ত্রে তুলসীকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়। তুলসীগাছ শুকিয়ে যাওয়া মানে লক্ষ্মী দেবী অসন্তুষ্ট হওয়া। আবার বাস্তুমতে এটাও মনে করা হয় গরমের কারণে তুলসীগাছ শুকিয়ে মারা গেলে তা ফেলে দেওয়া উচিত নয়। শাস্ত্র মতে তুলসীর প্রতিটি অংশ, সেটি কাঁচা হোক বা শুকনো, অত্যন্ত পবিত্র।
শুকনো তুলসীর ডাল বা পাতা ইতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে। কয়েকটি শুকনো তুলসীগাছ গঙ্গাজলে শুদ্ধ করে একটি লাল কাপড়ে বা ছোট কাগজে মুড়ে আলমারি, লকার বা মানিব্যাগে রেখে দিন। এটি অপ্রয়োজনীয় খরচ কমায় এবং আর্থিক টানাটানি দূর করে। লাল রঙ এবং তুলসীর মিলনকে সমৃদ্ধির প্রতীক ধরা হয়।
নেতিবাচকতা বা বাস্তু দোষ কাটাতে শুকনো তুলসী ব্যবহার বেশ কার্যকর বলে মানা হয়। শুকনো তুলসীপাতা গুঁড়ো করে বা আস্ত অবস্থায় গঙ্গাজলের মধ্যে কিছু ক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এরপর সেই জল একটি তুলসীপাতা বা ফুল দিয়ে সারা ঘরে ছিটিয়ে দিন। এটি ঘরের কোণে জমে থাকা নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনে। বিশেষ করে সন্ধেবেলায় এটি করলে ঘরে ইতিবাচক স্পন্দন ছেবাড়ে।
হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, তুলসীগাছ ভগবান বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয় একটি গাঠ। কোনও শুভ তিথিতে বা একাদশী তিথিতে ঘিয়ের প্রদীপ অনেকেই জ্বালান। সেই প্রদীপের সলতের সঙ্গে তুলসীগাছের একটি ছোট শুকনো টুকরো বা ডাল যোগ করে দিন। একে তুলসী দীপ বলা হয়। এই কাজটি করলে বাড়ি থেকে অশুভ শক্তির নাশ ঘটে।