ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকেই গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বেশ জটিল বলা যায়। গ্রহের অবস্থান দেখলেই বোঝা যাচ্ছে যে কেবল চন্দ্র ছাড়া কমবেশি প্রায় সব গ্রহই রাহু-কেতুর বন্ধনে আবদ্ধ। শনি এবং বৃহস্পতি কৌণিক দূরত্বের হিসাবে কিছুটা দূরে থাকলেও রবি, বুধ, শুক্র এবং মঙ্গল কুম্ভ রাশিতে রাহুর খুব কাছে বেশ জটিল অবস্থায় রয়েছে। জটিল অবস্থায় বলার কারণ রাহু এবং কেতুর অন্য গ্রহের মতো শারীরিক অস্তিত্ব না থাকলেও জ্যোতির্বিদ্যা অনুযায়ী রাহু-কেতুর অবস্থানে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট গাণিতিক বিন্দুতে বা বিন্দুর কাছাকাছি আসলেই যে কোনও গ্রহ নিজের পূর্ণ ফল দিতে ব্যর্থ হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র ভারতের প্রাচীন শাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি। এই শাস্ত্রের জন্মদাতা ভারতীয় মুনি-ঋষিগণ। এই শাস্ত্রের জন্মদাতাগণ এবং বর্তমানের শ্রদ্ধেয় জ্যোতিষীদের কথায় একটি বিষয় পরিষ্কার যে, রাহু এবং কেতু অপ্রত্যাশিত ফল দান করে। এই দুই গ্রহ কখন কী ঘটিয়ে দেবে তা আগে থেকে সম্পূর্ণ অনুমান করা সম্ভব না।
আরও পড়ুন:
বর্তমানে কুম্ভ রাশিতে রাহুর সঙ্গে রবি, বুধ, শুক্র এবং মঙ্গলের অবস্থান রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সমস্ত ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। মঙ্গল ভূমির কারক। ইতিমধ্যে ভূমিকম্প ঘটে গেছে এবং আগামী অল্প দিনের মধ্যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। বিমান দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যার আশঙ্কাও প্রবল। বুধের অবস্থানের ফলে শেয়ার বাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
রাহু এবং মঙ্গলের সহাবস্থানে সৃষ্টি হয়েছে অঙ্গারক যোগ। এই সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে মেষ, বৃশ্চিক, কুম্ভ, কর্কট এবং সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাদের। তবে এই সময় সকলেরই সাবধানে থাকা উচিত। বিশেষ করে, গাড়ি চালানো, অগ্নি এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যে কোনও বিষয়ে এবং এই সংক্রান্ত সমস্ত কাজে সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। ভেবেচিন্তে কথা বলা উচিত এই সময়। অযথা গুজব সৃষ্টি করা এবং গুজবে কান দেওয়া একদমই উচিত নয়।