আবার ফিরল সেই নীল ড্রাম আতঙ্কের স্মৃতি। বছর এগারোর ছেলেকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেল বন্ধ ঘরের মধ্যে। দেহ ঢোকানো ছিল ঘরের কোণে দাঁড় করানো এক নীল ড্রামের ভিতরে। ঘরের দেওয়ালে, বিছানায় রক্তের ছাপ। আর ড্রামের গা দিয়ে চুঁইয়ে পড়ছে রক্তের ধারা। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলায়।
জানা গিয়েছে, সোমবার মৃতের মা আশা এবং তাঁর মেয়ে আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিলেন। বাড়িতে একাই ছিল আশার ১১ বছরের পুত্র। বাড়ি ফিরে এসে দেখেন দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। কোথায় গেল ছেলে, খোঁজ শুরু করেন আশা। ডাকাডাকি করতে থাকেন। কিন্তু ছেলেকে কোথাও খুঁজে পান না। সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ এসে দরজার তালা ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢোকে। দেখা যায় ঘর লন্ডভন্ড। আর ঘরের কোণে রাখা একটি নীল ড্রাম। সেই ড্রামের মধ্যেই ওই শিশুর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কে বা কারা খুন করল তাকে, সে নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। তবে পরিবারের লোক সন্দেহ করেন স্থানীয় এক যুবককে। তিনি এলাকার এক লন্ড্রি দোকানের মালিক।
কী কারণ? আশা জানান, ওই লন্ড্রি দোকানের মালিক মথুরা তাঁকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বার বারই সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন আশা। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন মথুরা। আশার অনুমান, ওই যুবকই খুন করেছেন তাঁর পুত্রকে। ঘটনার পর থেকেই এলাকাছাড়া মথুরা। তাঁর খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর পর পর তিনটি এমন খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল নীল ড্রাম। প্রতি ক্ষেত্রেই দেহ উদ্ধার হয়েছিল বড় নীল ড্রামের ভিতর থেকে। এ বার সেই বীভিষিকা ফিরল সাতনায়।