ঝাড়খণ্ডের রাঁচীতে বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করলেন ২৭ মাওবাদী। উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্রও। রাজ্য পুলিশের ডিজি তাড়াশা মিশ্রের উপস্থিতিতে মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য পুলিশ। প্রসঙ্গত, রাজ্যে মাওবাদীদের ধরতে ‘নবজীবন অভিযান’ শুরু করেছে পুলিশ, সিআরপিএফ এবং ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার।
পুলিশ সূত্রে খবর, যে ২৭ জন আত্মসমর্পণ করেছেন, তাঁরা সকলেই পুলিশের খাতায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ছিলেন। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বহু মামলা ঝুলছে। এ বছরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ২২ মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে। ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর ২৯ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। রাজ্য পুলিশের ডিজি বলেন, ‘‘বাকি মাওবাদী সদস্যের কাছে আবেদন করা হচ্ছে, তাঁরা যেন অস্ত্র ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরে আসেন।’’
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মধ্যে রয়েছেন মিসির বেসরা। তাঁর মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা সারান্ডা এবং কোলহান অঞ্চলে সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাত জন সাব-জ়োনাল কমান্ডার। তাঁদের বিরুদ্ধে ১২৩টি মামলা ঝুলছে। ছ’জন এরিয়া কমান্ডার রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিলে সব রাজ্যকে কেন্দ্র জানায়, মাওবাদী হিংসা থেকে মুক্ত হয়েছে দেশের সব জেলা। তবে ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলাকে ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কনসার্ন’ (চিন্তাজনক জেলা) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ওই জেলাটি ছাড়াও অতীতে মাওবাদী প্রভাব ছিল এমন আরও ৩৭টি জেলার পরিস্থিতি স্পর্শকাতর বলে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং একই সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র।