গত কয়েক দিন ধরেই সিকিমে প্রবল তুষারপাত হচ্ছে। আর এই তুষারপাতের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটনস্থলে আটকে রয়েছেন বহু পর্যটক। রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন। অনেকে আবার গাড়িতেও আটকে রয়েছেন। তবে ধীরে ধীরে তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে পূর্ব সিকিম থেকে ২৭০০ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, ছাঙ্গু যাওয়ার পথে বহু পর্যটক আটকে পড়েছিলেন। তুষারপাতের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে পর্যটকেরা রাস্তাতেই আটকে পড়েন। তুষারপাতের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে বিপাকে পড়া পর্যটকেরা এখন উদ্ধারের অপেক্ষা করছেন। তবে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ২৭০০ পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। আর কোথায় কত পর্যটক আটকে রয়েছেন, সেই খবরও নেওয়া হচ্ছে। তাঁদেরও দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
সেরাথাঙে প্রবল তুষারপাত হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। ওই এলাকার রাস্তাগুলিতেও কয়েক ইঞ্চি বরফের পুরু আস্তরণ পড়েছে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ছাঙ্গু এবং ১৫ মাইলের মধ্যে রাস্তায় সাড়ে ৫০০ গাড়ি আটকে রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। মঙ্গলবার রাত থেকেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৭৩৬ পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজ্য পর্যটন দফতরের তরফে পর্যটক এবং পর্যটন সংস্থাগুলিকে আবহাওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য অনুসরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তুষারপাতপ্রবণ এলাকায় ভ্রমণের সময় গাড়িতে বাধ্যতামূলক ভাবে ‘স্নো চেন’ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জওহরলাল নেহরু রোডের সিপসু ও ১৬ মাইলের মাঝে বেশ কিছু পর্যটকবোঝাই গাড়ি আটকে পড়েছিল। মঙ্গলবার তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। বরফের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছিল। উদ্ধারকাজে নামতে হয় ভারতীয় সেনাকে। পুলিশ এবং জিআরইএফের সহায়তায় প্রবল ঠান্ডার মধ্যে শিশু-সহ ৪৬ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়।