Advertisement
E-Paper

বৃষ্টি থামায় উদ্ধারে গতি, এখনও আটকে ৪ লক্ষ

মেঘ সরে গিয়ে রোদ উঠেছে উপত্যকার আকাশে। বন্যার ভয়ঙ্কর ছবিটা একটু হলেও বদলেছে আজ। স্থানীয় সূত্রের খবর, শ্রীনগরের জলস্তর নেমেছে অনেকটাই। কিছু জায়গায় একতলা সমান উঁচু জল থাকলেও, বেশির ভাগ জায়গাতেই জলের গভীরতা দু-তিন ফুট। আবহাওয়া পরিষ্কার হওয়ায় একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়লেও, এতটুকু বিরাম নেই উদ্ধারকাজে। রাত-দিন এক করে কাজ করে যাচ্ছেন সেনা ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর প্রায় এক লক্ষ কর্মী।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০৩:১৬
উদ্ধারে সেনাকপ্টার।

উদ্ধারে সেনাকপ্টার।

মেঘ সরে গিয়ে রোদ উঠেছে উপত্যকার আকাশে। বন্যার ভয়ঙ্কর ছবিটা একটু হলেও বদলেছে আজ। স্থানীয় সূত্রের খবর, শ্রীনগরের জলস্তর নেমেছে অনেকটাই। কিছু জায়গায় একতলা সমান উঁচু জল থাকলেও, বেশির ভাগ জায়গাতেই জলের গভীরতা দু-তিন ফুট। আবহাওয়া পরিষ্কার হওয়ায় একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়লেও, এতটুকু বিরাম নেই উদ্ধারকাজে। রাত-দিন এক করে কাজ করে যাচ্ছেন সেনা ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর প্রায় এক লক্ষ কর্মী। সেনা সূত্রের খবর, ৪৭ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা গিয়েছে মঙ্গলবার পর্যন্ত। তবে প্রায় চার লক্ষ মানুষ জম্মু ও কাশ্মীরের নানা জায়গায় এখনও আটকে আছেন বলে খবর। মৃত্যুমিছিল ২০০ পেরিয়েছে। কিন্তু এখনও চূড়ান্ত সংখ্যা জানাতে পারেনি প্রশাসন।

ছ’দিন বন্ধ থাকার পর এ দিন খুলেছে শ্রীনগর-লে সড়কপথ। জরুরি ভিত্তিতে খাবার, পানীয় ও ওষুধপত্র আনা হচ্ছে লাদাখ থেকে। খুলেছে রাজ্যের ভিতরের জম্মু-বাটোটে-ডোডা-কিস্তওয়ার ও জম্মু-রাজৌরি সড়ক। তবে এখনও বন্ধ জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক। দিল্লি, আমদাবাদ, হায়দরাবাদ ইত্যাদি জায়গা থেকে আকাশপথে ত্রাণসামগ্রী এসে পৌঁছচ্ছে উপত্যকায়। সাত হাজার কম্বল, ২১০টি তাঁবু, ৪২ হাজার লিটার পানীয় জল, ছ’শো কিলোগ্রাম বিস্কুট, সাত হাজার কিলোগ্রাম শিশুখাদ্য বণ্টন করা হয়েছে দুর্গতদের মধ্যে। জম্মুতে ৬৮টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে।

আকাশ পরিষ্কার হওয়ায় গতি পেয়েছে আকাশপথে উদ্ধারকাজ। বায়ুসেনা জানিয়েছে, গত কাল রাত থেকেই ক্রমাগত চক্কর কাটছে ৬১টি বায়ুসেনার চপার। যোগ দিয়েছে কিছু বেসরকারি বিমান সংস্থাও। আটকে পড়া মানুষদের সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে আনার কাজ চলছে নিরন্তর। আড়াইশোটিরও বেশি নৌকা চলছে জলমগ্ন এলাকাগুলিতে। এক এক বারে ১০-১৫ জনকে নিয়ে আসা হচ্ছে জম্মুর ত্রাণশিবিরে। দিনে ৫০-৬০ বার করে যাওয়া আসা করছে প্রতিটি নৌকা। কপ্টারে ও নৌকায় দুর্গতদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্য, পানীয়। কিন্তু উদ্ধারকর্মীরা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন কোনও রকম যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার জন্য। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে হাত লাগিয়েছে সেনাও। আশ্বাস মিলেছে, শীঘ্রই সক্রিয় হবে টেলি-যোগাযোগ ব্যবস্থা।


জলমগ্ন এলাকা। দড়ি বেয়ে প্রাণপণে নিরাপদ আশ্রয়ের লক্ষ্যে কাশ্মীরি যুবক।

সেনা এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দু’টি বিশেষ দল পাঞ্চেরি ও উধমপুর এলাকায় কাজ শুরু করেছে। ধস চাপা পড়ে ওই এলাকায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাত জনের দেহ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা। দুর্যোগের সময় পাকিস্তানের ২৮ জন গল্ফ খেলোয়াড়ের একটি দল কাশ্মীরে ছিল। ১৭ সদস্যের নেপালের একটি প্রতিনিধি দলও ছিল। নেপাল সরকারের দূত-সহ তাঁদের সকলকে সুস্থ ভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটস্অ্যাপের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। এ রকমই একটি সাইটে ছড়িয়ে পড়া আপৎকালীন বার্তা থেকে খবর পেয়ে শ্রীনগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলাকেও। উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন এক কোরীয় দম্পতি। কেরল সরকারের তরফে খবর, অপূর্বা বোস নামের এক মালয়ালি অভিনেত্রীর আটকে পড়েছিলেন দুর্যোগে। তাঁকেও উদ্ধার করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া আজ ঘোষণা করেছে, কাশ্মীরে আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরার জন্য বিনামূল্যে আসনের ব্যবস্থা করবে তারা।

এ দিন উদ্ধার হওয়া মানুষদের নামের তালিকা প্রকাশ করতে জম্মু-কাশ্মীর সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অনিল গোস্বামী এ দিন জানিয়েছেন, তালিকা প্রকাশ হলে কিছু মানুষ অন্তত তাঁদের পরিজনরা সুস্থ আছেন জেনে স্বস্তি পাবেন। উদ্ধার নিয়ে অবশ্য অসন্তুষ্ট দুর্গতদের একাংশ। অভিযোগ, কিছু বিশেষ জায়গাতেই বিশেষ নজর দিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। বহু জায়গায় এখনও এসে পৌঁছয়নি ত্রাণ। অনিল গোস্বামী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “অভিযোগ সঙ্গত। কিন্তু যত দ্রুত সম্ভব সকলকে উদ্ধার করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।”


কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। ত্রাণ শিবিরে আনা হচ্ছে বন্যায় আটকে পড়া বৃদ্ধাকে। শ্রীনগরে মঙ্গলবার।

জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও। আজ তিনি জানান, কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে বাংলার ৬০ পর্যটক বিপদে পড়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তাঁরা। অধীর বলেন, “কেন্দ্র ও সেনার সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই যাত্রীদের উদ্ধারের আর্জি জানিয়েছি। রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি, বাংলার পর্যটকদের খোঁজখবরের জন্য অবিলম্বে আপৎকালীন সেল খোলার ব্যবস্থা করুক রাজ্য সরকার।”

কাশ্মীরের বন্যা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েনও শুরু হয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর চটজলদি কাশ্মীরে যাওয়া এবং এক হাজার কোটি টাকার ত্রাণ ঘোষণার পিছনে বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে চোখ রেখেই মোদীর এই পদক্ষেপ বলে মত কংগ্রেসের। এখন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গাঁধী। কিন্তু আজই কাশ্মীরে বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি একটি কমিটি গঠন করেছে কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচন লক্ষ্য করে ত্রাণ-প্রতিযোগিতায় নেমেছে দু’দলই।

ছবি: পিটিআই এবং এএফপি

kashmir flood indian army
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy