Advertisement
E-Paper

প্রস্তুত হচ্ছে ক্ষেত্র, প্রিয়ঙ্কাকে উত্তরপ্রদেশে প্রচারে চায় কংগ্রেস

রাহুল গাঁধীকে সঙ্গ দিয়েই গোটা উত্তরপ্রদেশে এ বারে প্রিয়ঙ্কাকে প্রচারে নামাতে চাইছে কংগ্রেস।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০১৬ ০২:৪৮

রাহুল গাঁধীকে সঙ্গ দিয়েই গোটা উত্তরপ্রদেশে এ বারে প্রিয়ঙ্কাকে প্রচারে নামাতে চাইছে কংগ্রেস।

কংগ্রেসের প্রচার কৌশলী প্রশান্ত কিশোর এর আগে রাহুল কিংবা প্রিয়ঙ্কার মধ্যে কাউকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ করেই এগোনোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সে প্রস্তাব সটান খারিজ করে দিয়েছে গাঁধী পরিবার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের শেষ ‘ব্রহ্মাস্ত’ প্রিয়ঙ্কাকে গোটা রাজ্যে প্রচারে নামানোর ব্যাপারে মোটের উপর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ যাবৎ প্রিয়ঙ্কা নিজের মা ও দাদার নির্বাচনী কেন্দ্র রায়বরেলী ও অমেঠীতেই নিজের প্রচারকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। দলীয় সূত্রের মতে, এ বারে সেই গণ্ডি পেরিয়ে গোটা রাজ্যেই তিনি প্রচার করতে পারেন। শুধু তাই নয়, পরের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশ থেকেই লড়বার একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রাখতে পারেন তিনি। যাতে সেই সময় সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত হলে তিনি প্রার্থী হতে পারেন।

ভবিষ্যতে প্রিয়ঙ্কা রাজনীতিতে এলে কোনটি তাঁর জন্য উপযুক্ত নির্বাচনী কেন্দ্র হতে পারে, তা নিয়েও একপ্রস্ত আলোচনা চলছে কংগ্রেসের অন্দরমহলে। সে ক্ষেত্রে অমেঠী কেন্দ্রটিই প্রাথমিক আলোচনায় উঠে এসেছে। এই মুহূর্তে অমেঠী থেকে সাংসদ প্রিয়ঙ্কার দাদা রাহুল। সেখানে স্মৃতি ইরানি গত লোকসভা নির্বাচনেও টক্কর দিয়েছিলেন। ভোটে হেরে যাওয়ার পরেও সেই কেন্দ্রে এখনও জমি আঁকড়ে রয়েছেন স্মৃতি। ফলে প্রিয়ঙ্কা অমেঠী থেকে দাঁড়ালে দুই মহিলার লড়াই হবে সরাসরি। আর সনিয়া গাঁধী শারীরিক অসুস্থতার জন্য আর ভোটে না লড়লে রাহুল রায়বরেলী কেন্দ্রে যেতে পারেন। কিন্তু কংগ্রেসেরই সূত্র বলছে, এই সবই এখনও ভাবনাচিন্তার স্তরে রয়েছে। দলের মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারি বলেন, ‘‘এ ধরনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবেন সনিয়া গাঁধী। যখন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা প্রকাশ্যে জানানো হবে।’’

বহু দিন ধরেই প্রিয়ঙ্কাকে সক্রিয় রাজনীতিতে আনা নিয়ে দলের মধ্যেই দাবি উঠেছে। কিন্তু দলের ভার রাহুলের হাতেই সঁপে দিতে চান সনিয়া গাঁধী। রাহুলকে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত হয়েই রয়েছে। অপেক্ষা শুধুমাত্র ‘উপযুক্ত’ সময় দেখে তা ঘোষণা করা। রাহুল তার ক্ষেত্রও প্রস্তুত করছেন ধীরে ধীরে। দলের অনেকে মনে করেন, প্রিয়ঙ্কার যে ঝাঁঝ রয়েছে, আর ইন্দিরা গাঁধীর সঙ্গে যে মিল রয়েছে, তাতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে এলে রাহুলকেও ছাপিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু কংগ্রেস সূত্রের মতে, এই মুহূর্তে এমন কোনও পদক্ষেপ করা হবে না, যাতে প্রিয়ঙ্কার ছায়ায় ঢাকা পড়ে যান রাহুল। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যের নির্বাচনে হাওয়া তুলতে প্রিয়ঙ্কাকে ব্যবহার করা যেতে পারে। আর সেটি হবে রাহুলের ‘পরিপূরক’ হিসেবেই।

কিন্তু এর সঙ্গে আশঙ্কারও একটি কারণ রয়েছে কংগ্রেসের অন্দরে। নব্বইয়ের দশকের শেষ নাগাদ যখন সনিয়ার আবির্ভাব হয়েছিল, সেই সময়েও সে ভাবে কংগ্রেস ঝড় তুলতে পারেননি তিনি। সদ্য বিধানসভা নির্বাচনের পর রাহুলের নেতৃত্ব নিয়েও দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীরা এখনও নানা ভাবে রাহুলকে কটাক্ষ করেন। এমনকী, বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা আকছার বলে থাকেন, ‘‘যদি রাহুল কংগ্রেসের দায়িত্ব নেন, তা হলেই বিজেপির ‘অচ্ছে দিন’ আসবে।’’ কিন্তু প্রিয়ঙ্কা যদি শেষ পর্যন্ত সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন, তা হলে বিজেপির কৌশল কী হবে? বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের জবাব, ‘‘আগে তো আসুন, তার পর দেখা যাবে।’’

Priyanka Gandhi Uttar Pradesh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy