এক সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারার পর ১০ কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল এক গাড়ি। স্থানীয়দের নজরে আসতে তাঁরা বাইকে চেপে ধাওয়া করেv ওই গাড়িটিকে। থামানোর জন্য বার বার অনুরোধও করেন। কিন্তু চালক গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দেন। শেষে এক সর্ষের ক্ষেতে সাইকেল, আরোহী এবং নিজের গাড়ি ফেলে পালিয়ে যান চালক! ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার উমাপতিপুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে কুমারেশ মণ্ডল নামে ব্যক্তি সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। উমাপতিপুর এলাকায় উল্টো দিক থেকে আসা একটি চারচাকা সজোরে ধাক্কা মারে সাইকেলে। তার ফলে গাড়ির সামনে আটকে যান কুমারেশ। তার সাইকেলও আটকে যায়। ওই অবস্থাতে না-দাঁড়িয়ে গতি বাড়িয়ে গাড়ি চালিয়ে দেন চালক।
রাস্তার পাশে থাকা স্থানীয়েরা বিষয়টি দেখে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। গাড়ি থামাতে বলেন। কিন্তু চালক তাতে ভ্রুক্ষেপ করেন না। কয়েক জন বাইকে করে ওই গাড়ির পিছনে ধাওয়া করেন গাড়ি থামানোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু চালক বেগতিক বুঝে গতি বাড়িয়ে দেন। বাইক নিয়েও গাড়িটিকে ধরতে পারেননি বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
প্রায় ১০ কিলোমিটার সাইকেল এবং সাইকেল আরোহীকে আটকে নিয়ে গিয়ে একটি সর্ষের ক্ষেতে গাড়ি থামান চালক। তার পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। পিছনে ধাওয়া করে আসা বাইকচালকেরা এসে গাড়িতে আটকে থাকা কুমারেশকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রুদ্রপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসার পরই কলকাতায় পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক।
আরও পড়ুন:
খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সাইকেল এবং ওই গাড়িটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় তারা। গাড়িটি যে রাস্তা দিয়ে গিয়েছে, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ফুটেজ দেখে গাড়ির চালককে শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয়েরা ওই চালকের কঠোর শাস্তি দাবি করছেন। দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পনা করে এমন কাণ্ড ঘটানো হয়েছে— তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।