খামেনেইয়ের হত্যাকারীদের নরকের রাস্তা দেখিয়েই ছাড়া হবে। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পরই আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে হুঁশিয়ারি দিল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। সেই হুঁশিয়ারির পরই আইআরজিসি দাবি করে, পশ্চিম এশিয়ায় অন্তত ১৪টি মার্কিন সেনাঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে। তাদের অন্য একটি সূত্র আবার দাবি করেছে, আমেরিকার ২৮টি সেনাঘাঁটিকে নিশানা করা হয়েছে। দাবি এবং পাল্টা দাবির মধ্যেই ইরান হুঁশিয়ারি দেয়, ‘‘ওদের (আমেরিকার) জন্য নরকের দরজা খোলাই রেখেছি।’’
ইরান বাহিনীর আরও দাবি, শুধু মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলি নয়, আমেরিকার অস্ত্রবহনকারী একটি জাহাজেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। জাবেল আলিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতি জারি করে আইআরজিসি দাবি করেছে, কুয়েতে আবদুল্লা মুবারকে মার্কিন নৌঘাঁটিতে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলায় বহু মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন।
এমএসটি-ক্লাস আমেরিকার সহযোগী রণতরীতেও হামলা চালানো হয়েছে। ভারত মহাসাগরে মার্কিন রণতরীর জন্য জ্বালানি নিয়ে যাচ্ছিল এই জাহাজ। কাদর ৩৮০ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় এই রণতরী লক্ষ্য করে। ইরানের আরও দাবি, কাতারে মার্কিন সেনার আল উদেইদ বায়ুসেনাঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। কুয়েতে আল সালিমে সেনাঘাঁটি এবং জর্ডনের মুয়াফ্ফক অল-সালতি সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। এ ছাড়াও আবু ধাবিতেও আল ধাফরা সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। ইরান সেনার দাবি, সব মিলিয়ে মোট ১৪টি মার্কিন সেনাঘাঁটিকে ধ্বংস করেছে তারা। পাশাপাশি হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে, আমেরিকার বাকি সেনাঘাঁটিগুলিতেও হামলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইরান বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, ‘‘আমেরিকার জন্য আমাদের নৌ এবং বায়ুসেনা নরকের দরজা খুলে রেখেছে।’’
তবে ইরানের হুঁশিয়ারিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুঙ্কার ছুড়েছেন, ‘‘ইরান যদি এখনও হামলা বন্ধ না করে, তা হলে এর পর এমন হামলার রাস্তায় যাব, ওরা কল্পনাও করতে পারবে না।’’ নিজের এক্স হ্যান্ডলে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ওরা হামলা আরও জোরালো করবে আমাদের বিরুদ্ধে। ওরা এটা না করলেই বরং ভাল। কারণ ওরা যদি এই রাস্তায় হাঁটে, তা হলে ওদের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ শক্তি ব্যবহার করব, যা ওরা আগে কখনও দেখেনি।’’
প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল থেকেই সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। তেহরান-সহ ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজ়রায়েল। পরে সেই অভিযানে যোগ দেয় আমেরিকাও। দুই দেশ একযোগে হামলা শুরু করে। পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। ইজ়রায়েলের রাজধানী তেল আভিভে একের পর এক হামলা চালায় ইরান। যত সময় গড়িয়েছে, দু’পক্ষের মধ্যে হামলা আরও জোরালো হয়েছে। তার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা দাবি করে, খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ইরান প্রথমে দাবি করে, সর্বোচ্চ নেতা সুরক্ষিত এবং সুস্থই আছেন। তবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল জোরের সঙ্গে দাবি করে খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সেই দাবি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান প্রশাসন থেকে খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে এ বার পুরো শক্তি কাজে লাগিয়ে হামলা চালাবে তারা।