ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ‘লুকাস’ ড্রোনকে প্রথম বার কাজে লাগাল আমেরিকা। ঘটনাচক্রে, যে ‘লুকাস’ ড্রোনকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে আমেরিকা, সেই ড্রোনটি ইরানেরই ঘাতক ড্রোন ‘শাহেদ ১৩৬’- এর আদলে তৈরি। ইরানের সেই প্রযুক্তি ‘নকল’ করে আমেরিকাও বানিয়ে ফেলে সস্তার ড্রোন। প্রসঙ্গত, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পেন্টাগন ঘোষণা করেছিল, তারা ইরানের ড্রোন ‘কপি’ করেছে। একই সঙ্গে সেই ড্রোনকে আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করে ইরানের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করবে। শনিবার ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হতেই সেই ড্রোনকে ব্যবহার করল আমেরিকা।
সূত্রের খবর, এই ড্রোন মূলত পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনীর স্করপিয়ন স্ট্রাইক। এটি কামিকাজ়ে ড্রোনের প্রথম ইউনিট। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর এই ড্রোন ইউনিট মোতায়েন করা হয়। ইরানের সঙ্গে সুইৎজ়ারল্যান্ডের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরই নতুন করে সামরিক সংঘাতের একটি আবহ তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরই পেন্টাগন ঘোষণা করে, যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে ইরানের অস্ত্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে।
তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিল আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়ায় পাঁচশোর বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা, যুদ্ধবিমান বহনক্ষম রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ওই অঞ্চলে মোতায়েন করার পরেও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা আর এক রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড ফোর্ডকেও পাঠানো হয় পশ্চিম এশিয়ায়। তখন থেকেই জল্পনা জোরালো হতে শুরু করে, তা হলে কি খুব শীঘ্রই আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামতে চলেছে আমেরিকা? সেই জল্পনা অবশেষে সত্যি হল।
ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে সামরিক সংঘাতে নামল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। সূত্রের খবর, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে আমেরিকা। শুধু টমাহক-ই নয়, ‘বাঙ্কার বাস্টার’-এর মতো ১৪ হাজার কেজির বোমাও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে তারা প্রথম ব্যবহার করছে ‘লুকাস’ ড্রোন। পুরো নাম ‘লো-কস্ট আনম্যান্ড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম’। অর্থাৎ সস্তার ঘাতক ড্রোন। আমেরিকার টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক এই ড্রোন পরিচালনা করেন। ইরানের ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনকে নকল করে ঘাতক এই ড্রোন বানিয়েছে আমেরিকা। এই ড্রোনের নির্মাণকারী সংস্থা অ্যারিজ়োনার ‘স্পেকট্রেওয়ার্কস’। এক একটি ড্রোনের দাম ৩৫ হাজার ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ২৯ লক্ষ টাকা)। এই ড্রোনে রয়েছে জিপিএস-ডিয়ানেড নেভিগেশন ব্যবস্থা। একসঙ্গে ৪০টির একটি ঝাঁক একতরফা ভাবে হামলা চালাতে সক্ষম। এক একটি ড্রোন ১৮ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে। মূলত শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, সেনাঘাঁটি, কোনও গুরুত্বপূর্ণ ইমারতে হামলা চালাতে এই ড্রোনের ব্যবহার করা হয়। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার কাছেও এই ‘লুকাস’ ড্রোন আছে। ইউক্রেনে হামলা চালাতে এই ড্রোনকে কাজে লাগিয়েছিল রাশিয়া।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘বন্ধু ট্রাম্প ফোন করেছেন’! ৪০ মিনিট ধরে কথা বলার পরে জানালেন মোদী, হরমুজ় ছাড়াও আর কী কী নিয়ে আলোচনা
-
আমেরিকাকে ফাঁকি দিয়ে হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে গেল ইরান বন্দর থেকে ছাড়া দুই জাহাজ! দাবি রিপোর্টে
-
নেতানিয়াহুদের সঙ্গে প্রতিরক্ষাচুক্তি স্থগিত করে দিলেন মেলোনি! জানালেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত
-
মার্কিন মধ্যস্থতায় ইজ়রায়েল-লেবানন শান্তি বৈঠকের আগে বেইরুটকে চাপ হিজ়বুল্লা গোষ্ঠীর! দাবি, বৃথা যাবে চেষ্টা
-
ইরানের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কেউ যেন নাক না গলায়! হরমুজ় অবরুদ্ধ করতেই আমেরিকাকে হুমকি চিনের