E-Paper

কাজের পরিবেশ ছিল না! তাই দলত্যাগী চাড্ডা

রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে লেখা চিঠিতে আপের রাজ্যসভার নেতা সঞ্জয় সিংহ লিখেছেন, রাজ্যসভার রেকর্ডে আম আদমি পার্টির সদস্য সংখ্যা অবৈধ ভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১০
রাঘব চাড্ডা।

রাঘব চাড্ডা। — ফাইল চিত্র।

দলে কাজের পরিবেশ ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে ওঠার কারণেই তিনি দল ছেড়েছেন বলে দাবি করলেন আম আদমি পার্টির দলত্যাগী রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তিনি-সহ আপের মোট সাত জন সাংসদের বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদানের আবেদন আজ রাজ্যসভায় গৃহীত হওয়ায় সংসদের উচ্চ কক্ষে শাসক দলের সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১১৩। যোগদানের অনুরোধ আজ গৃহীত হলেও রাজ্যসভার ২৪ এপ্রিলের বুলেটিনে কী ভাবে রাঘব চাড্ডাদের অন্তর্ভুক্তি দেখানো হল? প্রশ্ন তুলেছেন আপ নেতৃত্ব। এ দিকে আপের দল ভাঙার পুরস্কার হিসাবে আগামী মন্ত্রিসভার রদবদলে চাড্ডাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হতে পারে বলে জল্পনাও ছড়িয়েছে।

আজ রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে লেখা চিঠিতে আপের রাজ্যসভার নেতা সঞ্জয় সিংহ লিখেছেন, রাজ্যসভার রেকর্ডে আম আদমি পার্টির সদস্য সংখ্যা অবৈধ ভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। কার নির্দেশে, কত তারিখে প্রকাশিত হওয়া নির্দেশিকার ভিত্তিতে আসন সংখ্যার পরিবর্তন করা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। আপ নেতৃত্বের প্রশ্ন, গত ২৪ এপ্রিল দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন সাত সাংসদ। কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু আজ জানিয়েছেন, ওই সাংসদদের আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের অনুরোধে আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন। যদি তাই হয়, তা হলে ২৪ এপ্রিল প্রকাশিত রাজ্যসভার বুলেটিনেই কী ভাবে ওই দলত্যাগী সাংসদদের বিজেপির সদস্য হিসাবে দেখানা হল?

পরিসংখ্যান বলছে, ২৪৫ সংখ্যার রাজ্যসভায় বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দরকার ১২৩। আপের সাংসদদের যোগদানের পরে বিজেপির শক্তি হয়েছে ১১৩। ব্যবধান কেবল দশের। এই যোগদানের ফলে এনডিএ-র রাজ্যসভায় শক্তি দাঁড়াল ১৪৮। রাজ্যসভায় এনডিএ-র দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে প্রয়োজন ১৬৪ জন সাংসদের সমর্থন। সদস্য সংখ্যা ১৬ জন বাড়লেই ওই সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলতে সক্ষম হবে এনডিএ। বছরের শেষে ৩০টি আসনে রাজ্যসভার ভোট হতে চলেছে। তা থেকে আরও প্রায় পাঁচটি বাড়তি আসন পেতে পারে বিজেপি। তবে রাজনীতিকদের বক্তব্য, যেহেতু লোকসভায় বিজেপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তাই রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও রাজনৈতিক ভাবে বিশেষ লাভ হবে না শাসক শিবিরের।

দলের বিষাক্ত পরিবেশকেই দল ছাড়ার কারণ হিসাবে তুলে ধরেছেন রাঘব। অরবিন্দ কেজরীওয়ালের প্রাক্তন ছায়াসঙ্গী রাঘবের মাধ্যমেই আপের আরও ছয় সাংসদকে ভেঙে আনতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। সেই রাঘব আজ বলেন, ‘‘পনেরো বছর আগে রক্ত-ঘাম দিয়ে যে দল গড়েছিলাম, সেই দলের নিয়ন্ত্রণ আজ কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ও আপসকামী লোকের হাতে চলে গিয়েছে। যারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। দলে কাজের পরিবেশ বলে কিছু নেই। আমি একা ভুল বলতে পারি। একসঙ্গে সাত জন ভুল করতে পারেন না।’’ ওই যোগদানকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন বলেন, ‘‘আপ সাংসদেরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বিধানসভা ভোটে হেরে গিয়েও রাজ্যসভায় পঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করবে বিজেপি। এই সাত সাংসদের গড়ে সম্পত্তি হল ৮১৮ কোটি টাকা। এরা থোড়াই আম আদমি ছিলেন। এরা আসলে শতকোটিপতিদের পার্টি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

AAP Aam Aadmi Party

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy