দিল্লির অমর কলোনিতে আমলা-কন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত পরিচারক সম্পর্কে নয়া তথ্য পেল পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময়েই অনলাইনে গেম খেলা শুরু করেন। অল্প টাকা দিয়ে সেই গেম খেলতেন অভিযুক্ত পরিচারক। আত্মীয়দের দাবি, পড়াশোনায় ভাল ছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণির পর থেকেই তাঁর আচরণে অদ্ভুত ভাবে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
পুলিশের কাছে আত্মীয়েরা দাবি করেছেন, দশমে বোর্ডের পরীক্ষায় ৭৩ শতাংশ পেয়েছিলেন ওই তরুণ। দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯০ শতাংশ পান। পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইনে জুয়া খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। একটা সময় এত আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, নিজের মার্কশিট বন্ধক রাখেন। অনলাইন গেমে পাঁচ লক্ষ টাকা জেতার পর আরও টাকার নেশা চেপে বসেছিল তাঁর মাথায়। পরে এক সময় জুয়ায় পাঁচ লক্ষ টাকা হেরে যান। তার পর আত্মীয়, বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া শুরু করেন। এ ভাবে বিপুল টাকা ঋণ হয়ে গিয়েছিল তাঁর।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাহুলকে এই অবস্থা থেকে বার করে আনার জন্য তাঁর পরিবার দিল্লিতে এক পরিচিতের সূত্রে পরিচারকের কাজে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তরুণের আসক্তি দূর হয়নি। দিল্লিতে আমলার বাড়িতে কাজ পান। সেখানেও আশপাশের আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী, পরিচারকদের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া শুরু করেন। ফলে ধার গলাসমান হয়ে যায়। তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয় আমলার কাছে। তার পরই তাঁকে কাজ থেকে বার করে দেওয়া হয়। তার পর রাজস্থানের অলওয়ারে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। গেম খেলার জন্য ঘরের একটা একটা জিনিসও বন্ধক রাখা শুরু করেন। এমনকি নিজের মার্কশিটও বন্ধক দিয়ে দেন। তাঁর উপর টাকা মেটানোর চাপ বাড়ছিল পাওনাদারদের। তার পরই দিল্লিতে গিয়ে চুরি করার পরিকল্পনা করেন।
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রচন্ড বদমেজাজি ছিলেন অভিযুক্ত পরিচারক। গ্রামে কারও কাছে তাঁর ভাবমূর্তি ভাল ছিল না। তাঁর পরিবারেও নিত্যদিন অশান্তি লেগে থাকত। অভিযুক্তের বাবা মদ্যপান করে অশান্তি করেন। ফলে পরিবারের পরিবেশ খুব একটা ভাল নয় বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রে খবর, দিল্লির দ্বারকার যে হোটেল থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই হোটেলের ম্যানেজার হিন্দুস্তান টাইমস-কে বলেন, ‘‘হোটেলে ওই তরুণ এসে ঘর চান। আমাকে জানান, তিনি অলওয়ারের বাসিন্দা। দিল্লিতে কিছু কাজের জন্য এসেছেন। খুব ধীর, স্থির দেখাচ্ছিল তাঁকে। দেখে কখনওই মনে হয়নি যে, এত বড় একটা কাণ্ড ঘটিয়ে এসেছেন। দেড় হাজার টাকা হোটেলভাড়া দেন। বিকেল ৪টের সময় পুলিশ হোটেলে আসে। পরে জানতে পারি ওই তরুণ একজন খুনি।’’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার আইআরএস আধিকারিকের কন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে ওই পরিচারকের বিরুদ্ধে। তরুণীর গলা, হাত-পা এবং দেহের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় আমলা-কন্যাকে। এই ঘটনায় তোলপাড় রাজধানী।