কন্যা সন্তানের চোখের সামনে চার জনকে হত্যা করেছে তালিবান। হাওড়ায় নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার পরেও সেই বীভৎস দৃশ্য ভুলতে পারছেন না আফগান নাগরিক ৩২ বছরের মহম্মদ খান। ভুলতে পারছে না মেয়েটিও। সে ডুকরে কেঁদে উঠছে ঘুমের ঘোরে। এখনও ভয় করছে তার, যদি ফের তালিবান আসে!
তালিবান ক্ষমতা দখলের পরে সবই হারিয়েছেন। বাড়ি, দোকান সব লুঠ করেছে তালিবান। মাত্র ৬০ হাজার টাকা আর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোনও মতে দেশ ছেড়ে এসেছেন ভারতে। প্রথমে দিল্লি, সেখান থেকে হাওড়ার এক বন্ধুর বাড়িতে জায়গা করে নিয়েছেন। শূন্য থেকে শুরু করতে হবে সবই, অনেক লড়াই সামনে, তবু তালিবানি শাসন থেকে মুক্তি একটু হলেও আশা জুগিয়েছে। তিনি বলছেন, ‘‘আমার মেয়ে এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ওর চোখের সামনে চারজনকে হত্যা করেছে তালিবান। রাতে একা একা কাঁদছে, ওকে ঘুম পাড়াতে পারছি না। বোঝাতে পারছি না, এটা ভারত, এখানে তালিবান নেই।’’
আরও পড়ুন:
মহম্মদের মা-বাবা এখনও আটকে আফগানিস্তানে। তাঁদের ভারতে আনতে এখন দিনরাত চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। ইতিমধ্যে একাধিকবার আফগানিস্তানে থাকা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলছেন, ‘‘বৃহস্পতিবার আরও একটি বিমান ভারতে আসবে। আমি আশা করছি, সেখানে ওঁদের স্থান হবে। আমার ভাই, মা-বাবা, সকলেই বিপদে। আমি ভারতীয় দূতাবাসকে অনুরোধ করছি, ওঁদের যেন উদ্ধার করা হয়।’’
কী ভাবে মুক্তি পেলেন মহম্মদ? বলছেন, ‘‘আমার পরিচিত এক বন্ধু ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সাহায্যেই আমি পালাতে পেরেছি। পালিয়ে আসার পর ভিডিয়োতে দেখেছি, আমার দোকান লুঠ করা হচ্ছে। তালিবান সব নিয়ে গিয়েছে। আবার সব শূন্য থেকে শুরু করতে হবে।’’