সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে আগেই ভারত সরকারকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু তাতে কর্ণপাত না করেই সিন্ধুর পশ্চিমমুখী উপনদ বিতস্তা (ঝিলম) এবং চন্দ্রভাগা (চেনাব) নদের জলে ভারত ভাগ বসাতে সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন পাক জলসম্পদ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ওয়াপদা) চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মহম্মদ সঈদ।
সোমবার সঈদ বলেন, ‘‘বিতস্তা এবং চন্দ্রভাগার জল বেশি পরিমাণে ধরে রাখার জন্য ভারত প্রায় ৬০০০ কোটি ডলারের (প্রায় ৫ লক্ষ ৪৮ হাজার কোটি টাকা) প্রকল্প শুরু করেছে। অদূর ভবিষ্যতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এটি এক প্রাণঘাতী অস্ত্রে পরিণত হতে পারে, যা বন্যা ও খরা উভয়ই সৃষ্টি করতে পারে!’’ তিনি জানান, সিন্ধু এবং তার উপনদগুলিতে ভারতের বর্তমান জলধারণ ক্ষমতা ১৫ দিন। প্রকল্পগুলির রূপায়ণ হলে তা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ দিন হবে। পাকিস্তানের পক্ষে যা ‘চরম উদ্বেগের’ বলে তাঁর অভিযোগ।
ভারত কী ভাবে পাকিস্তানকে বিপদে ফেলতে পারে, তার ব্যাখ্যাও দিনেছেন সঈদ। তিনি বলেন, “প্রায় দু’মাস স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ রাখার সুযোগ থাকলে (ভারতের), বিশেষ করে যখন নিম্নপ্রবাহে ফসলের জন্য জলের প্রয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন পাকিস্তানে খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। অন্য দিকে, ভারত মৌসুমি বৃষ্টি বা ভারী বর্ষণের সময় সংরক্ষিত জল ছেড়ে ইচ্ছামতো বন্যা সৃষ্টি করতে পারে, যা তারা ইতিমধ্যেই তাদের বর্তমান ১৫ দিনের জল সংরক্ষণ ক্ষমতা দিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে করছে।” বর্তমান পরিস্থিতিতে নিম্নপ্রবাহ অঞ্চলের বাসিন্দারা পানীয় ও সেচের জলের সমস্যায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
গত এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপরে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত সরকার। তার পর থেকেই ধারাবাহিক ভাবে নয়াদিল্লিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে ইসলামাবাদ। কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ, সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের হুমকি উপেক্ষা করেই গত ডিসেম্বরে জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ারে চন্দ্রভাগা নদের উপরে নতুন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিশেষজ্ঞ প্যানেল। বিশ্বব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায় সেখানে গ্রিনফিল্ড স্টোরেজ এবং ৫৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হবে বলে নয়াদিল্লি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতাতেই ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু নদীর জল বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছিল। জলের নিরিখে সিন্ধু এবং তার শাখা ও উপনদী মিলিয়ে ৩০ শতাংশ ভারত ও ৭০ শতাংশ পাকিস্তান পাবে বলে চুক্তিতে বলা হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব দিকের তিনটি নদী, অর্থাৎ বিপাশা (বিয়াস), ইরাবতী (রাভি) ও শতদ্রু (সতলুজ়)-র জলের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। অন্য দিকে, পশ্চিমমুখী সিন্ধু (ইন্ডাস), চন্দ্রভাগা (চেনাব) ও বিতস্তার (ঝিলম) জল ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান। তবে পশ্চিমের তিন নদীর জলের উপর অধিকার না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী তা থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধা নেই ভারতের। যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন আর কখনও সিন্ধু জলচুক্তির পুরনো শর্তগুলি কার্যকর হবে না।