×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৬ জুন ২০২১ ই-পেপার

সুবিচারের আশায় আফজলের পরিজন

নিজস্ব সংবাদদাতা
শ্রীনগর ১৪ জানুয়ারি ২০২০ ০৪:৪৫
—ফাইল চিত্র।

—ফাইল চিত্র।

জঙ্গি-যোগের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের হাইজ্যাকিং-দমন শাখার প্রধান দেবেন্দ্র সিংহ। এর পরেই সুবিচারের আশায় বুক বাঁধছেন সংসদ হামলা মামলার আসামি আফজল গুরুর পরিজন। ২০১৩ সালে তার ফাঁসি হয়েছিল। আফজলের ভাইয়ের দাবি, দেবেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঠিক তদন্ত হলে প্রমাণ হবে তাঁর ভাই নিরপরাধ ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছিল, দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামের ওয়ান পো এলাকায় একটি গাড়ি থেকে তিন জঙ্গির সঙ্গে দেবেন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদকপ্রাপ্ত ওই অফিসার বর্তমানে শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোতায়েন ছিলেন। ওই পুলিশ অফিসারের গ্রেফতারের ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দেয় কাশ্মীরে। চাকরি জীবনে দেবেন্দ্র বরাবরই বিতর্কিত। তাঁকে গ্রেফতারের পরেই ফের চর্চা শুরু হয়েছে দেবেন্দ্র সম্পর্কে আফজল গুরুর অভিযোগগুলি নিয়ে। সংসদ হামলা মামলায় দোষী সাব্যস্ত আফজল ২০০৪ সালে তাঁর আইনজীবীকে লেখা চিঠিতে দেবেন্দ্রের সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানিয়েছিলেন। লিখেছিলেন, ‘‘ওই সময় ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহ হুমহামায় স্পেশাল অপারেশন গ্রুপে ছিলেন। তিনি মহম্মদ নামে এক পাকিস্তানিকে দিল্লিতে বাড়ি ভাড়া করে দিতে বলেছিলেন। তার জন্য গাড়ি কিনে দিতে বলেন।’’ নিজের আইনজীবীকে আফজল জানিয়েছিলেন, দেবেন্দ্রের সঙ্গে শান্তি সিংহ নামে আর এক পুলিশ অফিসার ছিলেন। এসটিএফের শিবিরে ওই অফিসারই তার উপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন। কিন্তু আফজলের ওই বক্তব্য সে সময় গুরুত্বই পায়নি।

দেবেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে মনে করেন আফজলের ভাই ইয়াসিন গুরু। আনন্দবাজারকে তিনি বলেন, ‘‘আশা করি, আফজল গুরুকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর (দেবেন্দ্র) ভূমিকারও তদন্ত হবে। ঠিক মতো তদন্ত হলে প্রমাণ হবে আমার ভাই নিরপরাধ ছিল।’’ তিনি জানিয়েছেন, আফজলের অভিযোগের সঠিক তদন্ত না-হলে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

Advertisement

আরও পড়ুন: ক্যাম্পাসে গিয়ে ঐশীকে প্রশ্ন দিল্লি পুলিশের

ইয়াসিনদের সঙ্গে সহমত উপত্যকার অনেকেই। গাঁধী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক মহম্মদ উমরের কথায়, ‘‘আফজল গুরু সংসদ হামলার সঙ্গে জড়িত এ কথা দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিই বিশ্বাস করেন না। নতুন করে সঠিক তদন্ত হলে সত্য উদ্ঘাটিত হবেই।’’ বুন্দ এলাকায় কফির দোকান রয়েছে মহম্মদ তাস্কিনের। দেবেন্দ্র সম্পর্কে এক রাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘অনেক জঘন্য অপরাধের সঙ্গে দেবেন্দ্র জড়িত। নব্বইয়ের দশকে স্পেশাল অপারেশনের সময় অনেকের উপর ওই অফিসার অত্যাচার করেছেন।’’

Advertisement