২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাসিটা মিলিয়ে গেল হরীশ রাওয়াতের। তাই বলে নরেন্দ্র মোদীর মুখে হাসি ফোটার কোনও কারণ অবশ্য এখনও ঘটেনি।
গতকালই নরেন্দ্র মোদী সরকারকে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে দেহরাদুনের মসনদে হরীশ রাওয়াতের সরকারকে ফিরিয়ে এনেছিল উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট। আজ নরেন্দ্র মোদী সরকারের আবেদনে উত্তরাখণ্ডে ফের রাষ্ট্রপতি শাসন বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। তবে আপাতত তা আগামী বুধবার পর্যন্ত। আর এই সময়ের মধ্যে বিজেপি যাতে কোনও ভাবে পিছনের দরজা দিয়ে সে রাজ্যে সরকার গড়তে না পারে, তা সুনিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতি শাসন তুলে না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
হাইকোর্টের রায় আসার পর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গতকালই নিয়েছিল কেন্দ্রের মোদী সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতাগি আদালতকে জানান, এখনও পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের প্রতিলিপি কেউই হাতে পাননি। গোটাটাই জানা গিয়েছে মুখে মুখে। অথচ গত কাল রাতেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে হরীশ রাওয়াত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রায় এক ডজন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। আজ মূলত সেই যুক্তির ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে সব পক্ষকে রায়ের প্রতিলিপি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টকে।
কিন্তু কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রপতি শাসন তুলে নিয়ে বিজেপি-র সরকার গড়ার চেষ্টা করতে পারে। তাদের সেই আশঙ্কার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট ২৭ তারিখে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার না করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রকে। আদালতে কেন্দ্র সেই আশ্বাসও দিয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন- সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের মুখ্যমন্ত্রীহীন উত্তরাখণ্ড
প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে ফের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ভোগ করার পর হরীশ রাওয়াত আজ বলেন, ‘‘আদালতের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। শীর্ষ আদালত গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চায়। আমরাও সেটি চাইছি।’’ কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল রায়ের পর বলেন, ‘‘আজ থেকে অন্তত ২৭ তারিখ পর্যন্ত হরীশ রাওয়াত আর মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। রাজ্যের জন্য কোনও সিদ্ধান্তও তিনি নিতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি শাসন ফের বহাল থাকায় রাজ্যপালের মাধ্যমেই রাজ্যপাট চলবে।’’
কিন্তু গোটা ঘটনায় বিজেপির যে মুখ পুড়েছে, সেটি নিয়ে বিরোধীরা তো বটেই, এমনকী শরিক দল শিবসেনাও সরব হয়েছে। শিবসেনা আজ বলে, উত্তরাখণ্ডের হাইকোর্টের রায়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘রাজনৈতিক স্বার্থ’ই ফুটে উঠেছে। এমনকী, রাষ্ট্রপতির মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ হয়েছে এতে। ঘরোয়া মহলে বিজেপি নেতৃত্বও কবুল করছেন, সুপ্রিম কোর্টই এখন শেষ ভরসা। যদি শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের পথে চলে রায় দেয়, তা হলে সেটি হবে আরও বড় ধাক্কা। কেন্দ্রীয় সরকার উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় যে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে, কংগ্রেসের পাল্টা যুক্তিও রয়েছে। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির মতে, স্পিকারের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে না। ফলে আজ সুপ্রিম কোর্টে সাময়িক স্বস্তি পেলেও শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি বিজেপি শিবিরের।