ইডির দফতরে অভিযান মামলায় ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টে ধাক্কা খেল সে রাজ্যের পুলিশ। আদালত জানিয়ে দেয়, ইডির বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে, তা স্থগিত রাখতে হবে। শুধু তা-ই নয়, ইডির দফতর এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাঁচীর পুলিশ সুপারকেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে ইডির দফতরে পুলিশের এই অভিযান ‘পূর্বপরিকল্পিত’। ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের আইপ্যাক কাণ্ডে ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তের উপরেও স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
ইডি দফতরে পুলিশ অভিযান নিয়ে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে আদালতের নির্দেশ, ইডির দফতর এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তার জন্য সিআরপিএফ, বিএসএফ অথবা যে কোনও আধাসামরিক বাহিনীকে মোতায়েন করতে হবে। পাশাপাশি, রাঁচীর পুলিশ সুপার রাকেশ রঞ্জনকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইডির দফতরের সঠিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি কেন্দ্রীয় সংস্থার দফতর কিংবা আধিকারিকদের নিরাপত্তায় কোনও খামতি ধরা পড়ে, তা হলে তার দায় বর্তাবে পুলিশ সুপারের উপর। এয়ারপোর্ট থানায় যে এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে, তা-ও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের বিশাল বাহিনী পৌঁছোয় রাঁচীর ইডির দফতরে। ডেপুটি পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিক এবং এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে তল্লাশি অভিযান চলে। ই়ডি দফতরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী সন্তোষ কুমার এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ইডির দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে। জল সরবরাহ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে ১২ জানুয়ারি তলব করা হয়েছিল ইডির দফতরে। অভিযোগ, সেখানে তাঁকে ইডির দুই আধিকারিক মারধর করেন। সেই অভিযোগ পাওয়ার পরই বৃহস্পতিবার ইডির দফতরে হানা দেয় রাঁচীর এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইডি-পুলিশ ‘সংঘাত’ শুরু হয় ঝাড়খণ্ডে।
সেই ঘটনার পর বৃহস্পতিবারই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। তারা সিবিআই তদন্তের দাবি জানায়। তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করে ইডি। আদালতে কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবী জানান, ২৩ কোটি টাকার একটি দুর্নীতির তদন্ত করছে ইডি। যে দুর্নীতিতে সন্তোষ জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে। সে কারণেই তাঁকে তলব করা হয়েছিল। ঘটনাচক্রে, পশ্চিমবঙ্গে যখন আইপ্যাক কাণ্ড ঘিরে ইডি-পুলিশ ‘সংঘাত’ চরমে, সেই সময় ঝাড়খণ্ডেও কেন্দ্রীয় সংস্থার দফতরে পুলিশের অভিযান এই ‘সংঘাত’কে একটা অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।
গত ৮ জানুয়ারি কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। তল্লাশি চালায় সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরেও। ইডির আইপ্যাক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ রয়েছে ইডিরও। সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে লিখিত ভাবে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে ইডি। শীর্ষ আদালতের কাছে জমা দেওয়া লিখিত বক্তব্যে ইডি জানিয়েছে, তল্লাশি চলার সময় জোর করে ভিতরে ঢোকেন মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) মনোজ বর্মা এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ ভিতরে জোর করে প্রবেশ করেন। তদন্তকারীদের ভয় দেখানো, আটকে রাখা, গুরুত্বপূর্ণ নথি, মোবাইল, হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ তুলেছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা, চুরি, ডাকাতি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল। ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তের উপরেও স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।