Advertisement
E-Paper

পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্যেও ইডি-পুলিশ ‘সংঘাত’! দাবি অভিযুক্তকে মারধরের, কেন্দ্রীয় সংস্থার দফতরে হানা পুলিশের

রাজ্য সরকারের নিকাশি এবং পানীয় জলের দফতরে কাজ করতেন সন্তোষ কুমার নামে এক ব্যক্তি। জল সরবরাহের দুর্নীতির একটি মামলায় সন্তোষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি। তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০০
ইডির দফতরে পুলিশের তল্লাশি অভিযানে পর মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত।

ইডির দফতরে পুলিশের তল্লাশি অভিযানে পর মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গে আইপ্যাক-কাণ্ড নিয়ে যখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘাত চরমে, ঠিক সেই সময়েই পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্যেও পুলিশের সঙ্গে ‘সংঘাতে’ জড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বৃহস্পতিবার ইডির দফতরে বিশাল বাহিনী নিয়ে তল্লাশি অভিযানে যায় রাঁচী এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ।

জানা গিয়েছে, সন্তোষ কুমার নামে রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মী ঝাড়খণ্ডের রাঁচী এয়ারপোর্ট থানায় ইডির আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গত ১২ জানুয়ারি মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন। সন্তোষ রাজ্য সরকারের নিকাশি এবং পানীয় জলের দফতরে কাজ করতেন। জল সরববরাহের দুর্নীতির একটি মামলায় সন্তোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তলব করেছিল ইডি।

অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্তোষকে ইডির দুই আধিকারিক মারধর করেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁকে দিয়ে জোর করে অপরাধ স্বীকার করানো হয়। তার পরই ইডির বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে রাঁচী এয়ারপোর্ট থানার দ্বারস্থ হন সন্তোষ। সেই অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার ডিএসপি পদমর্যাদার এক আধিকারিক এবং এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী রাঁচীতে ইডির আঞ্চলিক দফতরে হাজির হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ইডি দফতরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই ঘটনার পর ইডির দফতরের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এই ঘটনায় বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশকে দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের দুর্নীতির নথি নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা হল না তো? প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ইডির এক কর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত। আর্থিক এবং জমি দুর্নীতির মামলায় দিল্লিতে হেমন্তের বাসভবনে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। তার পরেই সেই অভিযোগ দায়ের করেন হেমন্ত। এফআইআরে বলা হয়েছিল, তাঁকে হেনস্থা করতেই এই ধরনের অভিযান চালাচ্ছে ইডি।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে যখন আইপ্যাক-কাণ্ড নিয়ে হুলস্থুল হচ্ছে, সেই সময়ে ঝাড়খণ্ডেও ইডি-পুলিশের ‘সংঘাত’ প্রকাশ্যে এল। গত ৮ জানুয়ারি কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। তল্লাশি চালায় সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরেও। ইডির আইপ্যাক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ রয়েছে ইডিরও। সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে লিখিত ভাবে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে ইডি। শীর্ষ আদালতের কাছে জমা দেওয়া লিখিত বক্তব্যে ইডি জানিয়েছে, তল্লাশি চলার সময় জোর করে ভিতরে ঢোকেন মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) মনোজ বর্মা এব‌ং বিপুল সংখ্যক পুলিশ ভিতরে জোর করে প্রবেশ করেন। তদন্তকারীদের ভয় দেখানো, আটকে রাখা, গুরুত্বপূর্ণ নথি, মোবাইল, হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ তুলেছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা, চুরি, ডাকাতি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল। ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তের উপরেও স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

ranchi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy