E-Paper

পরমাণু জ্বালানি চুক্তি ভারত ও কানাডার

প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঘোষণা, ‘‘আমাদের লক্ষ্য, ২০৩০ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।’’ অর্থাৎ ৫ হাজার কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫০
(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং মার্ক কার্নি (ডান দিকে)

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং মার্ক কার্নি (ডান দিকে) — ফাইল চিত্র।

আমেরিকার শুল্কের চাপে ভারত এবং কানাডার বাণিজ্যিক স্বার্থের মিলন দেখল নয়াদিল্লি।দীর্ঘ কূটনৈতিক সংঘাত পার হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বৈঠকের পর সে দেশের সঙ্গে ভারতের দশ বছরমেয়াদি ঐতিহাসিক ‘পরমাণু জ্বালানি চুক্তি’ সই হল। দীর্ঘমেয়াদী ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিপত্র, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে চুক্তি এবং বিরল খনিজ খাতেসহযোগিতার জন্যও দু’টি দেশ চুক্তি সই করেছে। কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতিতে এই চুক্তিগুলি সই হয়।

এরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঘোষণা, ‘‘আমাদের লক্ষ্য, ২০৩০ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।’’ অর্থাৎ ৫ হাজার কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকা।

বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, “এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছি। গত বছর কানাডায় জি৭ সম্মেলনে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন কার্নি। আজও একই উষ্ণতার সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানাতে পারা আমার সৌভাগ্য।”

শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তলানিতে পৌঁছানো কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে বড় পদক্ষেপ করেছে ভারত ও কানাডা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশই বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছে। কানাডা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক শুল্কের ঝুঁকি কমাতে বাজার বহুমুখীকরণ করতে চায়, তেমনি ভারতও রাশিয়ার উপর জ্বালানি-নির্ভরতা কমিয়ে নতুন অংশীদার খুঁজছে। বৈঠক শেষে মোদী জানান, পরমাণু জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহের জন্য দুই দেশ যুগান্তকারী চুক্তিতে পৌঁছেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কানাডা অন্যতম অংশীদার হতে পারে। দুই দেশ কৌশলগত জ্বালানি অংশীদারি শুরু করছে।’

তবে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের মধ্যে কাঁটাও রয়েছে। কার্নির ভারত সফরকালেই কার্নির দলেরই এক লিবারাল সাংসদ এবং শিখ সম্প্রদায়ভুক্ত কিছু নেতা ভারত সম্পর্কে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তবে ভারত সফররত কানাডার বিদেশমন্ত্রী তা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘‘এটা যাঁরা বলছেন তা তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত, কানাডার সরকারি বক্তব্য নয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Trade Deal Nuclear deal

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy