চিনা যুদ্ধবিমান নির্মাণকারী সংস্থা এভিক চেংডুর শনির দশা! পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের মধ্যেই হু-হু করে কমছে তাদের শেয়ারদর। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত তাদের স্টকের সূচক নেমেছে ২৭ শতাংশ। তবে কি চেংড়ুর তৈরি সাড়ে চার প্রজন্মের জে-১০ ল়ড়াকু জেট বিক্রিতে এসেছে মহামন্দা? বেজিঙের প্রতিরক্ষা সংস্থার শেয়ারদর খাদে নামতেই এই নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানে সামরিক অভিযান চালালে পশ্চিম এশিয়ায় বেধে যায় যুদ্ধ। আমেরিকার গণমাধ্যমগুলির দাবি, এই লড়াইয়ে পর্দার আড়ালে থেকে তেহরানকে হাতিয়ার সরবরাহ করছে বেজিং। ফলে ড্রাগনভূমির প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির শেয়ারে রকেটগতি দেখতে পাওয়ার কথা। যদিও বাস্তবে মিলেছে ঠিক তার উল্টো ছবি।
পশ্চিমি সংবাদসংস্থাগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন মাসে ২২ শতাংশ কমেছে চেংডুর স্টকের দাম। শেষ এক বছরে এই সূচক ২৮ শতাংশের বেশি নীচে নেমে গিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ থেকে জে-১০ জেট কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাতে থাকে একাধিক দেশ। সেই উন্মাদনা কমতেই শেয়ারের দর এক ঝটকায় অনেকটা নীচে নেমে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বছরের (২০২৫ সাল) মে মাসে অপারেশন সিঁদুরকে কেন্দ্র করে স্বল্প পরিসরে ভারত-পাকিস্তান ‘যুদ্ধ’ বাধলে ঊর্ধ্বমুখী হয় চিনা সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণকারী সংস্থাগুলির স্টকের দর। ওই সময় জানা যায়, জে-১০ জেট ব্যবহার করেছে ইসলামাবাদের বায়ুসেনা। ফলে চেংড়ুর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পায় ৪৫ শতাংশ। শেষ পাঁচ বছরে ২৮৮ শতাংশ চড়েছে এই স্টকের সূচক।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ সামরিক সরঞ্জাম বিক্রয়কারী দেশের তালিকায় নাম রয়েছে চিনের। কিন্তু, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে কোনও বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েনি বেজিং। ফলে ড্রাগনের তৈরি হাতিয়ারের কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আর তাই আগামী দিনে চেংড়ুর স্টকের সূচক আরও নিম্নমুখী হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)