E-Paper

গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও আমেরিকাকে ভয়, প্রশ্নের মুখে মোদী

ইরানে ইজ়রায়েলের হামলা শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তেল আভিভেই ছিলেন। সে দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। অথচ ততক্ষণে নেতানিয়াহু ইরানের উপরে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৫
নরেন্দ্র মোদী।

নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

ভারতের গোয়েন্দা বাহিনী বা বিদেশ মন্ত্রকের কাছে কি আগাম কোনও খবর ছিল না যে ইজ়রায়েল ইরানের উপরে হামলা করতে চলেছে? কেনই বা মোদী সরকার ইরানের উপরে হামলা নিয়ে নীরব?

ইরানে ইজ়রায়েলের হামলা শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তেল আভিভেই ছিলেন। সে দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। অথচ ততক্ষণে নেতানিয়াহু ইরানের উপরে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। ফলে মোদী সরকার এখন ঘরোয়া রাজনীতিতে বিরোধীদের জোড়া প্রশ্নের মুখে। এক, ইরানের উপরে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের হামলা নিয়ে মোদী সরকার চুপ কেন? কেন মোদী সরকার এর নিন্দা করছে না? দুই, হামলার ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ইজ়রায়েলে, তখনও কি মোদী সরকার আঁচ করতে পারেনি, ইরানের সঙ্গে ইজ়রায়েল আমেরিকাকে সঙ্গে নিয়ে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়তে চলেছে?

কংগ্রেস আজ অভিযোগ তুলেছে, মোদী সরকারের কূটনীতিক ও গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। অতীতে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানেরও আঁচ পায়নি নয়াদিল্লি। পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নিয়েও সেই ব্যর্থতা। ফলে মনে হচ্ছে, ভারত হয় দিশেহারা। না হলে ইজ়রায়েলের সঙ্গেই রয়েছে। মোদী সরকারকে অস্বস্তি ফেলে আজ ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ভারতকে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নিজেই ইরানে গিয়ে বলেছিলেন, ভারত ও ইরানের দোস্তি ইতিহাসের মতো প্রাচীন। কিন্তু খামেনেইয়ের হত্যার পরে মোদী একটি কথা বলেননি।’’ আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেন, ‘‘ইরানে, ভেনেজুয়েলায় আমেরিকায় যা হল, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতা। কাউকে পছন্দ না হলে, কোনও দেশের নেতার বিরুদ্ধে যদি সে দেশের একাংশ মানুষ বিক্ষোভ দেখায়, তা হলে এখন থেকে সেই নেতাকে অপহরণ বা খুন করা হবে? তার পরেও ভারত নীরব থাকবে?’’ বিরোধীদের বক্তব্য, জওহরলাল নেহরু ইরানের সঙ্গে ১৯৫০ সালে মৈত্রী চুক্তি করেছিলেন। অটলবিহারী বাজপেয়ী ২০০১-এ তেহরান ঘোষণায় সই করেছিলেন। তাঁর সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্টকে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানা হয়েছিল। অথচ নরেন্দ্র মোদী এখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ইরানের হামলার নিন্দা করছেন। কিন্তু ইরানে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের হামলায় শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আসলে তিনি আমেরিকাকে ভয় পাচ্ছেন।

কংগ্রেস আজ নরেন্দ্র মোদীর সামনে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। যাঁকে নরেন্দ্র মোদী ‘মৌনমোহন’ বলে কটাক্ষ করতেন। মনমোহন সিংহ ২০০৫ সালের ২০ জুলাই আমেরিকার মাটিতে, ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ইরাকে হামলা করে আমেরিকা ভুল করেছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের বক্তব্য, ‘‘যে প্রধানমন্ত্রী ভারত-আমেরিকা পরমাণু চুক্তি করেছিলেন, তিনি আমেরিকার ভুলের সমালোচনা করেছিলেন। যে সরকার নিজের বিশ্বাসের ভিত্তিতে, মানুষের স্বার্থে কথা বলে, তারাই গোটা বিশ্বে সম্মান পায়। স্বঘোষিত বিশ্বগুরু তা বুঝবেন না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Narendra Modi Iran Israel Crisis america

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy