এ বার সব জাহাজের নাবিকদের হুঙ্কার দিয়ে রাখল ইরান। হরমুজ় প্রণালী হয়ে কেউ যাওয়ার চেষ্টা করলেই আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হবে জাহাজে। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে আগেই অবরুদ্ধ করে রেখেছে তেহরান। এ বার সরাসরি জাহাজের উপরে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল তারা।
গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল একসঙ্গে ইরানে হামলার পর থেকেই প্রত্যাঘাত শুরু করে দেয় ইরান। ওই উত্তেজনা ছড়ায় হরমুজ় প্রণালীতেও। শনিবার থেকেই এই বাণিজ্যিক জলপথকে দৃশ্যত অবরুদ্ধ করে রাখে ইরান। কিছু জাহাজে হামলার খবরও মিলেছে ইতিমধ্যে। এ বার তারা আরও স্পষ্ট ভাবে নিজেদের অবস্থান বুঝিয়ে দিল। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের কমান্ডার-ইন-চিফের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, “হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করে, সেই জাহাজগুলিতে আগুন জ্বালিয়ে দেবে রেভোলিউশনারি গার্ড এবং ইরানের নৌসেনা।”
বিশ্বব্যাপী যত তেল আমদানি-রফতানি হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশই চলে এই হরমুজ় প্রণালী হয়ে। এই সরু সমুদ্রপথই সৌদি আরব, ইরান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো তৈলউৎপাদনকারী দেশগুলিকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এই জলপথ স্তব্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হরমুজ় প্রণালী কোথাও কোথাও প্রায় ৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত চওড়া। এতটা সরু হওয়ার ফলে উত্তেজনার পরিস্থিতিতে ইরান সহজেই এই জলপথের উপর প্রভাব খাটাতে পারে।
আরও পড়ুন:
হরমুজ প্রণালী নিয়ে চিন্তা রয়েছে দিল্লিরও। ভারতও এই জলপথ দিয়েই তেল আমদানি করে। ভারতে যত তেল আমদানি হয়, তার প্রায় ৫০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে প্রতি দিন ২৫-২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করে নয়াদিল্লি। তবে দিল্লির সূত্রের দাবি, এখনই এ বিষয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। তবে এই সংঘর্ষ দীর্ঘ দিন ধরে চললে সমস্যা তৈরি হতে পারে দিল্লিরও।