দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়াল, মনীশ সিসৌদিয়া-সহ ২৩ জনকে অব্যাহতি দিয়েছে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। এই মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আদালত। সিবিআইয়ের সওয়ালের মধ্যে অর্থনৈতিক অজ্ঞতাও দেখেছেন বিচারক। অন্য দিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে।
আদালতের রায় শুনেই কেঁদে ফেলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেজরীওয়াল। বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা কুর্সি চান, ভাল কাজ করে সেটা অর্জন করুন। এ ভাবে দেশের সংবিধান নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না। মনীশ সিসৌদিয়া সৎ, আম আদমি পার্টি সৎ।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপি আমাদের উপর একের পর এক দোষ চাপাচ্ছিল, আদালত সব খারিজ করে দিয়েছে। সমস্ত অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিয়েছে। আমি প্রথম থেকেই বলে এসেছি, সত্যের জয় হবে। দেশের বিচারব্যবস্থার উপর আমার ভরসা ছিল। যে বিচারক আমাদের ন্যায়বিচার দিলেন, তাঁকে ধন্যবাদ।’’
পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপিও। শুক্রবার এই প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, “দিল্লির মানুষ ওঁকে (কেজরীওয়াল) রাজনৈতিক ময়দানে রাজনৈতিক জবাব দিয়ে দিয়েছে।” পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিবিআই ভাবনাচিন্তা করবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে হেরে যায় কেজরীওয়ালের দল আপ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, অন্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছিল এই আবগারি দুর্নীতির মামলা। আপ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঝোড়ো প্রচার চালিয়েছিল পদ্মশিবির।
শুক্রবার নিম্ন আদালতের রায়ের পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে কেজরীওয়ালকে ধন্যবাদ জানান তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি লেখেন, “সত্যমেব জয়তে! সময় থাকতে থাকতে বিজেপি শিক্ষা নাও। তোমার সমস্ত নোংরা পরিকল্পনা, তোমার ইডি, তোমার সিবিআই— সব হাতের পুতুল সত্যের সামনে ধ্বংস হয়ে যাবে।”
আপ প্রধান কেজরীওয়ালের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে জোরালো তথ্যপ্রমাণ প্রয়োজন। কিন্তু তেমন কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সিবিআইয়ের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, আবগারি দুর্নীতি মামলায় মূল চক্রান্তকারী ছিলেন কেজরীই। শুক্রবার সিবিআইয়ের উদ্দেশে নিম্ন আদালতের বিচারক জিতেন্দ্র সিংহ বলেন, “অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে না-পারলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা টলে যায়।”
সিসৌদিয়াকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিবিআই এমন কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেনি, যা থেকে সিসৌদিয়ার অপরাধমূলক আচরণের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আদালতের বক্তব্য, তদন্তকারী সংস্থার তরফে যে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা বলা হয়েছিল, তা স্ববিরোধিতায় ভরা।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন সিসৌদিয়া। তখন তিনি দিল্লির আপ সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী। ১৮ মাস জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এই মামলাতেই কেজরীওয়ালকে গ্রেফতার করে ইডি। তখন তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। ইডির পাশাপাশি সিবিআই-ও এই মামলার তদন্ত করছিল।