নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যে জোর চলল তাঁর সেনাপতি অমিত শাহেরই। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নেতাকে উপেক্ষা করে অমিত শাহ নিজের পছন্দের ব্যক্তিকেই গুজরাতে দলের সভাপতি বানালেন।
গুজরাতে দলের সভাপতি হিসেবে আজ বিজয় রূপানির নামই ঘোষণা করা হল। নরেন্দ্র মোদীর আস্থাভাজন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন পটেল ভূপেন্দ্রসিন চুদাসমাকে সভাপতি করার পক্ষে ছিলেন। অমিত শাহ ও আনন্দীবেনের মতপার্থক্যের জেরেই এত দিন আটকে ছিল সভাপতির নাম। শেষ পর্যন্ত জোর চলল অমিত শাহেরই।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে নির্বাচনের আগে দিল্লিতে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, আনন্দীবেনকে সরিয়ে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী করা হবে অমিত শাহকে। যে ভাবে রাজ্যে সম্প্রতি হার্দিক পটেলের বিক্ষোভ হয়েছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হয়েছে, আনন্দীবেনের মেয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে, তার পর এই গুঞ্জন আরও প্রবল হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী এমন এক জনকে গুজরাতে দলের সভাপতি করতে চাইছিলেন, যাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা আছে। রাজ্যে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দিতে পারবেন। আর দিল্লি বসেই মোদী ও শাহ তাঁদের নিজের রাজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সামনের বছরের বিধানসভা নির্বাচনে যাতে মোদীর মুখ না পোড়াতে হয়।
বিজেপির এক শীর্ষনেতার কথায়, সব রাজ্যেই বিজেপির সভাপতি কম-বেশি বদল হচ্ছে। কিন্তু গুজরাত সবসময়েই দলের বর্তমান নেতৃত্বের কাছে ইজ্জতের বিষয়। কারণ, গুজরাত বিজেপির দুই বড় মাথাই এখন দিল্লিতে। ভোটের আগে আনন্দীবেনকে সরানোর এখনও কোনও প্রস্তাব নেই। কিন্তু দলকে সামাল দিতে এখন রূপানির মতোই এক জনকে দরকার, যিনি পরের বিধানসভায় মোদীর মান রাখতে পারেন। সে কারণে মোদী ও অমিত শাহ বানিয়া সম্প্রদায়ের রূপাণিকে বেছে নিয়েছেন, গুজরাতে যাদের প্রভাব কম। ফলে পটেল বা ক্ষত্রিয়দের মতো প্রভাবশালী কোনও এক সম্প্রদায়ের দিকে ঝুঁকে থাকার খেসারত দিতে হবে না।