দিল্লিতে কৃত্রিম মেধা (এআই) সম্মেলনের ফাঁকেই স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেড্রো সানচেজ় এবং ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেট্টেরি অর্পোর সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকের বড় অংশ জুড়ে যে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা হয়েছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট। বৈঠকের পরেই প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কে সুবর্ণ যুগের সূচনা করবে এই চুক্তি। মঙ্গলবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গেও বৈঠক করেন মোদী।
স্পেনের প্রেসিডেন্ট সানচেজ়ের সঙ্গে বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে মোদী লেখেন, ‘আমরা দুই দেশ ২০২৬ সালকে ভারত-স্পেন সংস্কৃতি, পর্যটন এবং কৃত্রিম মেধার বছর হিসাবে চিহ্নিত করেছি। এর ফলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগ আরও বাড়বে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরাও ভারতে আসছেন দেখে খুব আনন্দিত। এর ফলেও দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি পাবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘এই ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্পেনের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমাদের দেশের মানুষের সামনে নতুন সুযোগ তুলে ধরবে।’
গত ২৭ জানুয়ারি ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। এই খবর জানান প্রধানমন্ত্রী নিজেই। তিনি আরও জানান, গোটা বিশ্ব এই চুক্তিকে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করছে।
মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরে এক্সে সেই বিষয়ে জানিয়েছেন সানচেজ়ও। তিনি লেখেন, ‘এআই-এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে এই সম্মেলন আয়োজন করার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছি।’
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, মোদী জানিয়েছেন, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তিকে সমর্থন করার জন্য তিনি ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেট্টেরিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তিনি এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘ভারত এবং ফিনল্যান্ড দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ করতে উদ্যোগী। এর ফলে আর্থিক যোগ আরও শক্তিশালী হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হয়ে গেলে ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান বাড়বে ভারতের। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে সেই বিষয়টিই বার বার উঠে এসেছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ২৭টি দেশে ভারতের ৯০ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে রফতানি করা যাবে। আবার ইউরোপের অন্য দেশগুলির পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্কহ্রাস বা প্রত্যাহার করবে নয়াদিল্লি। এই চুক্তির ফলে বিশ্বে রফতানিযোগ্য ২৫ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে কোনও শুল্ক আরোপ হচ্ছে না। এর ফলে উপকৃত হবেন ভারত এবং ইউরোপের ওই দেশগুলিতে থাকা মোট ১৯০ কোটি ক্রেতা। তাই এই চুক্তিকে অনেকেই ‘সব চুক্তির জননী’ বলছেন। এআই সম্মেলনের ফাঁকে সেই চুক্তি কার্যকর করার দিকেই আরও একটু এগিয়ে অগ্রসর হল ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলি।