Advertisement
E-Paper

দিল্লি এসইউভি কাণ্ড: ‘আমাদের কোনও দোষ নেই, বাইকচালকেরই দোষ’! ধাক্কা মারার পর দাবি অভিযুক্ত নাবালকের বোনের

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধাক্কা মারার পর গাড়ি থেকে নেমে ভাইবোন বনেট পরীক্ষা করে। তার পর গাড়ি ফেলে হাঁটতে শুরু করে। তখন স্থানীয়েরাই তাদের দাঁড়াতে বলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৮
দুর্ঘটনাস্থল। (ইনসেটে) এসইউভির ধাক্কায় মৃত যুবক সাহিল ধানাস্রে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দুর্ঘটনাস্থল। (ইনসেটে) এসইউভির ধাক্কায় মৃত যুবক সাহিল ধানাস্রে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাস্তায় পাশে পড়ে রয়েছে কালো রঙের একটি বাইক। সাইলেন্সার পাইপ খুলে গিয়ে একপাশে পড়ে। বাইকের পিছনের চাকা ভেঙে আলাদা হয়ে গিয়েছে। আর কয়েক হাত দূরেই নিথর হয়ে পড়ে রয়েছেন বছর তেইশের এক যুবক। তাঁর ঠিক কিছু দূরে রাস্তার বাঁ দিক ঘেঁষে দাঁড়ানো সেই এসইউভি। তার সামনে সাদা রঙের একটি অ্যাপক্যাব। সেটি ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত। গত ৩ ফেব্রুয়ারি এমনই দৃশ্য দেখেছিল দিল্লির দ্বারকা। এসইউভির ধাক্কায় মৃত্যু হয় যুবক সাহিল ধানাস্রের।

ধাক্কা মারার পরই এসইউভি-র কাছে ছুটে আসেন স্থানীয়েরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধাক্কা মারার পর গাড়ি থেকে নেমে ভাইবোন বনেট পরীক্ষা করে। তার পর গাড়ি ফেলে হাঁটতে শুরু করে। তখন স্থানীয়েরাই তাদের দাঁড়াতে বলেন। স্থানীয়দের মধ্যে কেউ এক জন ধমকের সুরে বলেন, ‘‘তোমরা কী করেছ, সেটা কী জানো? এক জনের মৃত্যু হয়েছে।’’ ভিড়ের মধ্যে থেকে আওয়াজ ওঠে, ‘‘কোথাও যাবে না তোমরা। এখানে অপেক্ষা করো।’’ অভিযুক্ত নাবালকের বোন তখন স্থানীয়দের বলে, ‘‘এতে আমাদের কোনও দোষ নেই। দোষ ছিল ওই বাইকচালকেরই।’’

দিল্লির দ্বারকার এই দুর্ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। ২০২৪ সালে পুণের পোর্শেকাণ্ডের সঙ্গে অনেকে তুলনা টানছেন। সেই ঘটনাতেও গাড়ির চালকের আসনে ছিল এক নাবালক। দিল্লির ঘটনার ক্ষেত্রেও তাই। পোর্শেকাণ্ডের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নাবালককে জামিন দিয়েছিল জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড। তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। দিল্লির ঘটনার ক্ষেত্রেও জামিন পেয়েছে অভিযুক্ত নাবালক। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বাবা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে যা করেছে তা ক্ষমার যোগ্য নয়। এই ঘটনার জন্য তিনি অত্যন্ত ব্যথিত। মৃত যুবকের পরিবারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনাও করেছেন। কিন্তু সাহিলের মা পাল্টা বলেছেন, ‘‘এঁর ক্ষমাপ্রার্থনাকে আমি গ্রহণ করতে পারছি না।’’ এর পরই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কী ভাবে নাবালকের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দিলেন অভিভাবকেরা? যদিও অভিযুক্ত নাবালকের বাবা বলেছেন, বয়স অল্প, তাই ভুল করে ফেলেছে। কিন্তু এই ঘটনার জন্য লজ্জাবোধ হচ্ছে তাঁর।

বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন সাহিল। তাঁর মা বলেন, ‘‘ম্যাঞ্চেস্টার যাওয়ার স্বপ্ন ছিল ছেলের। খুব শৃঙ্খলাপরায়ণ ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বিমা সংস্থাতেও কাজ করছিল সাহিল। আমার ব্যবসায় সাহায্য করত। নিজেও একটা ছোট ব্যবসা করছিল বন্ধুর সঙ্গে। সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেল।’’

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ মে পুণেতে দুই ইঞ্জিনিয়ারকে পিষে মারার অভিযোগ ওঠে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় গোটা দেশ তোলপাড় হয়। কিশোর যে মত্ত অবস্থায় ছিল, তা যাতে প্রমাণ না করা যায়, তার জন্য রক্তের নমুনা বদলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

Dwarka
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy