আমেরিকার সঙ্গে শান্তিবৈঠকে বার বার উঠেছে এসেছে হরমুজ় প্রণালীর কথা। শান্তিচুক্তিতেও রয়েছে সেই উল্লেখ। তবে ওই হরমুজ় প্রণালীতে কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ইরান দাবি করেছিল, হরমুজ় দিয়ে কোনও জাহাজকে পারাপার করতে গেলে তাদের টাকা দিতে হবে। যদিও সেই দাবি মানেনি আমেরিকা। তবে প্রথম থেকেই হরমুজ় প্রণালী নিজেদের দখলে রাখার কথা ঘোষণা করে আসছে তেহরান। শুক্রবার আবার একবার সেই একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করল তারা। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ়ের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই। তাদের অনুমতি ব্যতিত কোনও জাহাজ পার হতে পারবে না প্রণালী। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি, এ ব্যাপারে কেউ যদি আমেরিকার পক্ষ নেয়, তবে তাদের ফল ভুগতে হবে!
পশ্চিম এশিয়ায় বন্ধুরাষ্ট্রদের নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল আমেরিকা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্কো রুবিয়ো সফরকালে সেই বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ় পারাপারে কোনও ‘টোল ফি’ থাকবে না। ‘মুক্ত, শর্তহীন এবং অবাধ নৌচলাচলের’ আহ্বান জানানো হয়। যৌথ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইরান বা তার সহযোগীদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলার বিষয় অবশ্যই মোকাবিলা করা হবে।
যদিও ইরান মনে করে, আমেরিকার ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং উস্কানিমূলক’ বিবৃতি পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে। ইরানেপ উপবিদেশমন্ত্রী কাজ়েম গরিবাদী জানান, ইরানের ভূমিকা বিবেচনা না-করে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা কখনওই সম্ভব নয়। ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ় পারাপার কতটা ঝুঁকির, সেই বিষয় উল্লেখ করেছে তাদের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তারা জানিয়েছে, ইরানের অননুমোদিত তিনটি বিদেশি ট্যাঙ্কারকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এক মার্কিন কর্তা বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টির উপর নজর রাখছি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ় প্রণালীতে অবাধ জাহাজ চলাচলে ইরান কখনও ব্যাহত করতে পারবে না।’’
আরও পড়ুন:
হরমুজ় প্রণালী ধরে যাওয়া পণ্যবাহী জাহাজের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ় ধরে এগোচ্ছিল সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’। ওমানের দাহিট বন্দর থেকে ৭.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটির উপর হামলা চালানো হয়। আকাশপথে কোনও ভারী বস্তু নিক্ষেপ করে জাহাজটিকে নিশানা করা হয়। সেই ঘটনার পর আবার হরমুজ়ে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। অনেকের মতে, জাহাজটিকে ইরানের কর্তৃত্ব না-মানার ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। অনেকে আবার শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।
হরমুজ়ে নিষেধাজ্ঞা উঠলেও সে ভাবে এখনও জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি, তা স্পষ্ট জাহাজের গতিবিধি লক্ষ্য রাখা সংস্থার তথ্য থেকে। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা শুরু হওয়ার আগে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যে সংখ্যক পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। অনেকের মতে, সিঙ্গাপুরের পণ্যবাহী জাহাজের উপর হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সেই কারণে হরমুজ় প্রণালী পারাপার নিয়ে অনেকের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে।