পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতিকে ‘বিষ’ তকমা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ এক দিনের সফরে মধ্যপ্রদেশে এসে শিবরাজ সিংহ চৌহান সরকারের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেন অমিত। তখনই তিনি বলেন, ‘‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি হল বিষ। এই ব্যবস্থায় একটি দল ও সরকারের উপরে কেবল একটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণ থাকে।’’ কংগ্রেস, ডিএমকে ও উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাকে নিশানা করে অমিত বলেন, এই দলগুলি পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করে।
চলতি বছরের পরের দিকে মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা ভোট। আজ অমিত দাবি করেন, ২০১৫ সাল থেকে জাতপাতের ভিত্তিতে মধ্যপ্রদেশে আন্দোলন করেছে কংগ্রেস। এ ভাবে ‘জাতপাতের বিষ’ ছড়িয়েছিল তারা। ফলে ২০১৮ সালে মধ্যপ্রদেশে পরাজিত হয়েছিল বিজেপি।
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তো টিকিট পাচ্ছেন বিজেপি নেতাদের পরিবারের সদস্যেরাও? অমিতের জবাব, ‘‘কিছু ক্ষেত্রে কয়েক জনকে যোগ্যতার ভিত্তিতে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এ সব কথা বলে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিষয়টি লঘু করে দেবেন না। যদি একটি দল পরিবারের সম্পত্তি হয়ে যায় তখন তৃণমূল স্তর থেকে আসা কর্মীদের কী হবে?’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ছিল না। আমার পরিবারের কেউ কখনও রাজনীতি করেননি। জে পি নড্ডাজির ক্ষেত্রেও কথাটি সত্য। শিবরাজ সিংহ চৌহানজিরই বা কি পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ছিল?’’
এ দিন কংগ্রেস জমানার দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলেও তোপ দেগেছেন অমিত। তাঁর দাবি, টুজি, কয়লা কেলেঙ্কারি-সহ ইউপিএ জমানায় ২৪টি কেলেঙ্কারি হয়েছে। কিন্তু তাঁরা মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি কমল নাথ-সহ কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি কেন? অমিতের জবাব, ‘‘আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে ব্যবস্থা নিই না। এই সব কেলেঙ্কারিরই তদন্ত হচ্ছে। যদি আপনারা কমল নাথের হয়ে এই প্রশ্নটা করে থাকেন, তবে তিনি নিশ্চিন্ত থাকলে ভুল করবেন। এই প্রশ্নের ফলেই তদন্তের গতি বাড়তে পারে।’’
বিজেপি মধ্যপ্রদেশেও হরিয়ানার নুহের মতো গোষ্ঠী সংঘর্ষে মদত দেবে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ। অমিতের জবাব, ‘‘ওঁর মনে যা আছে তাই বেরিয়ে এসেছে। এক মাস পরে ওঁকে জিজ্ঞেস করবেন, সংঘর্ষ হল না কেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)