ফলের মতো কাঁচা খাওয়া যায় না সব ধরনের সব্জি। তবে কিছু কিছু সব্জি ব্যতিক্রম। সেগুলি যেমন রান্না করে খাওয়া যায়, তেমনই কাঁচাও খান অনেকে। গাজর, টম্যাটোর মতো মুলোও সেই পর্যায়ে পড়ে। অনেকেই কাঁচা মুলো কুরিয়ে বা সরু করে কেটে স্যালাডে খেয়ে থাকেন। আবার অনেকেই তা না করে মুলো যথাবিধি রান্না করে খান। কিন্তু এই রান্না করার প্রক্রিয়ায় কি মুলোর সমস্ত গুণ বজায় থাকে? নাকি মুলো কাঁচা খেলেই ভাল। দিল্লির এক পুষ্টিবিদ শ্রেয়া গোয়েল এই নিয়ে সবিস্তার আলোচনা করেছেন তাঁর সমাজমাধ্যমের পাতায়। শ্রেয়া বলছেন, ‘‘মুলো কাঁচা এবং রান্না করা—উভয় ভাবেই খাওয়া যায় এবং দুটিরই নিজস্ব কিছু বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। তবে আপনি কী ভাবে মুলো খাবেন তা নির্ভর করবে দু’টি প্রশ্নের উত্তরের উপর। এক, কেন মুলো খাচ্ছেন এবং দুই, আপনার হজমশক্তি কেমন।’’
১. কাঁচা খেলে
মুলোতে যে ভিটামিন সি থাকে তা তাপের সংস্পর্শে এলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেই হিসাবে ধরলে কাঁচা মুলোয় সব রকম পুষ্টিগুণ অক্ষত অবস্থায় থাকে। অতিরিক্ত তাপে বা গরম তেলের ছোঁয়ায় তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এ ছাড়া কাঁচা মুলোয় এনজ়াইমও থাকে বেশি পরিমাণে, যা শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। কাঁচামুলোয় জলের ভাগও বেশি থাকে, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
২. রান্না করে খেলে
অনেকের কাঁচা মুলো খেলে হজমের বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। তাঁদের ক্ষেত্রে মুলো রান্না করে খাওয়াই ভাল। কারণ, রান্না করলে মুলোর ফাইবার কিছুটা ভেঙে যায়। তীব্র ঝাঁঝালো ভাবও কমে যায়। ফলে এটি পেট ফাঁপার মতো সমস্যা তৈরি করে না। হজম করাও সহজ হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, মুলো রান্না করে নিলে বা ভাপিয়ে নিলে তাতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে।
আপনি কী ভাবে খাবেন?
১। লিভারের সমস্যা হলে খাবার খাওয়ার আগে স্যালাডে কাঁচা মুলো কুরিয়ে দিয়ে খেতে পারেন অথবা মুলোর রসও খেতে পারেন।
২। গ্যাসের সমস্যা থাকলে মুলো হালকা ভাপিয়ে নিয়ে জল ফেলে দিয়ে তারপর রান্না করে খান।
৩। মুলো ত্বক ভাল রাখতেও সাহায্য করে। তবে ত্বকের ঔজ্জ্বল্যের জন্য যদি মুলো খান তবে পাতলা স্লাইস করে কেটে সামান্য নুন এবং লেবুর রস ছড়িয়ে খেতে পারেন।
৪। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে মুলো রান্না করে খাওয়াই ভাল। কারণ, কাঁচা মুলো থাইরয়েড হরমোনের কাজে সামান্য বাধা দিতে পারে।
৫। মুলো যে ভাবেই খান, তার সঙ্গে থাকা পাতা অর্থাৎ মুলো শাক ফেলে দেবেন না। কারণ মুলোর চেয়ে বেশি পুষ্টি থাকে মুলোর শাকে। ওই শাক ভাজি করে বা যে কোনও ভাবে রান্না করে খাওয়া উপকারী।