বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় প্রস্তুতি-সফরে এসে বিজেপির ভোটপ্রাপ্তির অঙ্ক দেখিয়ে বিজেপিকে উজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন অমিত শাহ। আর এক ভোট-মুখী রাজ্য কেরলেও একই পথে হাঁটছেন তিনি। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণী ওই রাজ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন ফ্রন্ট এনডিএ-র জন্য ৩০% ভোটের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাহের মতে, গেরুয়া শিবির ৩০% ভোট পেলে কেরলে খেলা বদলে যাবে। এখনও অধরা কেরলে ভবিষ্যতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হওয়াও অসম্ভব নয়!
কেরলে এই প্রথম বার তিরুঅনন্তপুরমের পুর-নিগমে জয়ী হয়েছে এনডিএ। রাজধানী শহরের মেয়র হয়েছেন বিজেপির ভি ভি রাজেশ। পুরভোটে এনডিএ-র সাফল্যের পরে প্রথম তিরুঅনন্তপুরমে গিয়ে শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দিরে পুজো দিয়েছেন শাহ। তার পরে গিয়েছেন পঞ্চায়েত ও পুরভোটে জয়ী দলীয় প্রতিনিধি এবং নেতা-কর্মীদের নিয়ে এনডিএ কনভেনশনে। সেখানেই শাহ রবিবার মন্তব্য করেছেন, ‘আমি বলেছিলাম, আপনারা বিজেপির মেয়র করতে পারলে তবে পদ্ননাভস্বামীর কাছে অর্চনা করতে যাব। আগে ওখানে পুজো দিয়েই আপনাদের কাছে এসেছি। মেয়র পদে জয়ই কিন্তু শেষ কথা নয়। এটা একটা স্টেশন মাত্র। রাজ্য সচিবালয় পর্যন্ত পৌঁছতে হলে আরও রাস্তা পেরোতে হবে। বিধানসভায় আপনারা ৩০% ভোট নিশ্চিত করুন। তার পরে দেখুন কী হয়’!
তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে থাকা পশ্চিমবঙ্গের মতো বাম-শাসিত কেরলেও পরপর নানা নির্বাচনে বিজেপির ভোটপ্রাপ্তির অঙ্ককে হাতিয়ার করেছেন শাহ। সূত্রের খবর, সম্মেলনে তিনি দেখিয়েছেন, কেরলে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ-র ছিল ১১% ভোট। তার পরে ২০১৯ সালে তারা ১৬% এবং ২০২৪ সালে ২০% ভোট পেয়েছে। শাহের বক্তব্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র ভোট ৩০%-এ নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তার পরে লক্ষ্য হবে ৪০%। নিচু তলার কর্মীদের পরিশ্রমেই বিজেপির জন্য কেরলের মতো কঠিন জায়গায় জমি তৈরি হয়েছে এবং সেই ধারাই অব্যাহত রাখার বার্তা দিয়েছেন শাহ।
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, তাঁদের জন্য রাস্তা এখনও যথেষ্ট কঠিন। নরেন্দ্র মোদী যখন থেকে প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে সামনে থাকছেন, তখন থেকে কেরলে লোকসভায় বিজেপির ভোট বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু রাজ্যের নির্বাচনে সেই প্রাপ্তির হার অক্ষুণ্ণ থাকছে না। গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র ভোট নেমে গিয়েছিল প্রায় সাড়ে ১২% -এ। এখন পুর ও পঞ্চায়েত ভোটেও তারা গত বছরের লোকসভা নির্বাচনের চেয়ে কমে প্রায় ১৪% ভোট পেয়েছে। বিজেপির এক রাজ্য নেতার কথায়, ‘‘জাতীয় স্বার্থে অনেকে আমাদের সমর্থন করছেন। কিন্তু রাজ্যের প্রশ্নে এখনও অনেক ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। শাহ পরামর্শ দিতে পারেন, কাজটা করতে হবে আমাদেরই।’’
শাহ অবশ্য অতীতের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন দক্ষিণের পথ কঠিন হলেও অগম্য নয়। তাঁর যুক্তি, অসমে এক সময়ে মাত্র দুই বিধায়ক থেকে শুরু করে এখন সে রাজ্যে বিজেপির সরকার। উত্তরপ্রদেশে এক সময়ে ২২-২৫টা আসন জেতার দলই এখন সরকার চালাচ্ছে। একই ভাবে লোকসভায় এক সময়ে মাত্র দুই সাংসদ ছিল যাদের, সেই বিজেপির থেকেই মোদী পরপর তিন বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সম্মেলনে শাহ দাবি করেছেন, ‘পৃথিবী থেকে কমিউনিস্টরা মুছে গিয়েছে, দেশ থেকে কংগ্রেস মুছে যাচ্ছে। এখানেও এলডিএফ (বামেদের ফ্রন্ট) এবং ইউডিএফ (কংগ্রেসের ফ্রন্ট) বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। সেই জায়গা নিতে হবে বিজেপিকে’। সূত্রের খবর, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও ধর্ম-বিশ্বাসের সুরক্ষা— কেরলে এগোনোর এই তিন মন্ত্র আপাতত বেঁধে দিয়েছেন শাহ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)