ভারতে প্রথম বার ধরা পড়ল ‘জেহাদি মাদক’ ক্যাপ্টাগন। এই মাদক সেবন জেহাদে উদ্বুদ্ধ করে, এমন নয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে মৃত্যুভয়কে দূরে রেখে দীর্ঘ ক্ষণ যুদ্ধ করে যাওয়ার জন্য ওই মাদক অত্যন্ত কার্যকর বলে জঙ্গিরা ওই মাদক নিয়ে থাকে। তাই এটি ‘জেহাদি’ মাদকবলে পরিচিত।
আজ ওই ‘জেহাদি’ মাদক ভারতে ধরা পড়ার কথা জানিয়েছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানিয়েছেন, ক্যাপ্টাগন নামে ওই মাদক বাজেয়াপ্ত করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল বুরো (এনসিবি)। বাজেয়াপ্ত মাদকের আর্থিক মূল্য প্রায় ১৮২ কোটি টাকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, মাদকমুক্ত ভারত গড়তে নরেন্দ্র মোদী সরকার বদ্ধপরিকর। অপারেশন রেজিপলের মাধ্যমে এনসিবি এই প্রথম বার তথাকথিত জেহাদি মাদক ক্যাপ্টাগনবাজেয়াপ্ত করেছে।
এক বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে ওই মাদক উদ্ধার করেছে এনসিবি। অমিত বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়াগামী মাদক বাজেয়াপ্ত করা এবং বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতারির বিষয়টি সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানের উজ্জ্বল উদাহরণ।’’ ভারতে প্রবেশ করা প্রতি গ্রাম মাদক রোখা হবে এবং ভারতকে ‘ট্রানজ়িট রুট’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, গত কাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) আয়োজিত আর এন কাও মেমোরিয়াল বক্তৃতায় মাদক পাচার রুখতে বিশ্বের সব দেশকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান করেছিলেন শাহ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, ক্যাপ্টাগন হল একটি কৃত্রিম মাদক, যা মূলত স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য ওই উদ্দীপক গোড়ায় পরীক্ষা করা হয়েছিল। তখনই খুব দ্রুত এর নেতিবাচক দিকগুলি সামনে উঠে আসে। অতিরিক্ত আসক্তি, বারংবার সেবনে স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতির কারণে মাত্র কুড়ি বছরের মধ্যেই মাদকটি নিষিদ্ধ করা হয়।
কিন্তু বিগত কয়েক দশকে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছ থেকে এবং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন যুদ্ধ এলাকা থেকে ক্যাপ্টাগন ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, উদ্দীপক ওই মাদকের ব্যবহার কোনও ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় জাগিয়ে রাখতে পারে। ওই ব্যক্তি ক্ষুধা-তৃষ্ণা বা ক্লান্তি জয় করে দীর্ঘ ক্ষণ প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুঝতেও সক্ষম হন। ওই উদ্দীপক এক জন ব্যক্তিকে অতিরিক্ত আগ্রাসন ও অনায়াসে ঝুঁকি নিতেও সাহায্য করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, ক্যাপ্টাগনের ব্যবসা সংগঠিত অপরাধী ও জঙ্গি গোষ্ঠী এবং তাদের নেটওয়ার্কের আয়ের এক বড়অবৈধ উৎস।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)