E-Paper

জ্বালানিতে মউ, ঢাকা, ওয়াশিংটন এগোচ্ছে প্রতিরক্ষা নিয়েও

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে যখন বহু দেশ জ্বালানি নিয়ে চিন্তিত, তখন আমেরিকার সঙ্গে এই মউ সই করল বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনে আমেরিকার জ্বালানি দফতরে তা সই হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৯:১৬
ওয়াশিংটনে একটি সমঝোতা পত্র (মউ) সই করেছেন আমেরিকার জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট এবং বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

ওয়াশিংটনে একটি সমঝোতা পত্র (মউ) সই করেছেন আমেরিকার জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট এবং বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত।

দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানির জোগান নিশ্চিত করতে আমেরিকাকে পাশে পেতে চায় বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে একটি সমঝোতা পত্র (মউ) সই করেছেন আমেরিকার জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট এবং বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ ছাড়া, বাংলাদেশ এবং আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে খবর। ওই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বন্দর ও বিমানঘাঁটির পরিকাঠামো আমেরিকা অবাধে ব্যবহার করতে পারবে।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে যখন বহু দেশ জ্বালানি নিয়ে চিন্তিত, তখন আমেরিকার সঙ্গে এই মউ সই করল বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনে আমেরিকার জ্বালানি দফতরে তা সই হয়। পরে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সাশ্রয়ী মূল্য ও জ্বালানির নিশ্চিত সরবরাহের জন্য এই মউ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মউয়ের আওতায় তেল, গ্যাস ও জৈবশক্তি ক্ষেত্রে দক্ষতাবিনিময় এবং গবেষণা সহজ হবে। সেই সঙ্গে আমেরিকা থেকে সুলভে এলএনজি, এলপিজি ও অন্য জ্বালানি পণ্য বাংলাদেশের আমদানি সহায়ক হবে। খলিলুরের মত, এই সমঝোতা ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশ-আমেরিকার সম্পর্কের আরএকটি মাইলফলক।

কূটনীতিকদের একাংশের মতে, বাংলাদেশের জ্বালানি ক্ষেত্রে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে আমেরিকা। তাদের লক্ষ্য, এই ক্ষেত্রে ভারত বা চিন কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য যে খননকার্যও চালাতে চায় তারা। শেখ হাসিনার সরকার চেয়েছিল, সমুদ্র উপকূলে তেল ও গ্যাসের সন্ধান করুক চিনের একটি সংস্থা এবং ভারতের ওনজিসি। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তিকালীন সরকার তা বাতিল করে দেয় বলে খবর। আমেরিকা চায়, ওই সমুদ্র উপকূলে তেল ও গ্যাসের সন্ধান করুক কোনোকোফিলিপসের মতো সংস্থা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে এ নিয়ে তদ্বিরও করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত।

ঢাকা-ওয়াশিংটন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চুক্তিও স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে খবর। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক ব্যক্তিগত চিঠিতে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সুবিধাকে দু’টি প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। সেগুলি হল, জেনারেল সিকিয়োরিটি অব মিলিটারি ইনফর্মেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ) এবং অ্যাকুইজ়িশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (এসিএসএ)। এসিএসএ চুক্তি সই হলে আমেরিকার রণতরী এবং যুদ্ধবিমানগুলি রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ভরা এবং পুনরায় সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের বন্দর ও বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে। যার মধ্যে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ির মতো কৌশলগত কেন্দ্রও যুক্ত থাকবে। বঙ্গোপসাগরের উপর একটি ধারাবাহিক নজরদারি অঞ্চল এবং চিনের জ্বালানি করিডর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার রুটগুলিতে প্রবেশাধিকার মিলবে আমেরিকার।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bangladesh USA

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy