মেয়র হয়ে আমজনতার ‘মগজধোলাই’! আমেরিকার ভিতরে ‘মিনি চিন’ গড়ে তোলেন ড্রাগনের মহিলা গুপ্তচর, তার পর...
দক্ষিণ ক্যালিফর্নিয়ার আর্কেডিয়া শহরের মেয়র ইলিন ওয়াংয়ের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা জুড়ে পড়ে গিয়েছে শোরগোল। তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে চিনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ। আদালতে সে কথা স্বীকার করেছেন ওয়াং।
আমেরিকার অন্দরে আস্ত একটি চিনা শহর! সেখানকার বাসিন্দারা কথা বলেন মান্দারিনে। শুধু তা-ই নয়, পোশাক-আশাক, খাওয়াদাওয়া থেকে চালচলন, সবটাই ড্রাগনভূমির মতো। বিষয়টি নজরে আসতেই চোখ কপালে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের দুঁদে গোয়েন্দাদের। তদন্তে আরও এগোতেই জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছেন স্বয়ং শহরের মেয়র তথা এক চৈনিক ‘লাস্যময়ী’। ধরা পড়ে বেজিঙের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কথা স্বীকার করছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফর্নিয়ার সুন্দর সাজানো-গোছানো শহর আর্কেডিয়া। চলতি বছরের ১১ মে, সোমবার আচমকাই পদত্যাগ করেন সেখানকার মেয়র ইলিন ওয়াং। তিনি ইস্তফা দিতেই প্রকাশ্যে আসে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে চিনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন তিনি। বেজিঙের এজেন্ট থাকার কারণে ইতিমধ্যেই তাঁকে অভিযুক্ত করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ বা ডিওজে (ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস)।
দক্ষিণ ক্যালিফর্নিয়ার আর্কেডিয়ার বাসিন্দাদের একটা বড় অংশই হল চিনা বংশোদ্ভূত আমেরিকান। মার্কিন গোয়েন্দাদের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’ জানিয়েছে, এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক জীবনে দ্রুত উন্নতি করেন বছর ৫৮-র ওয়াং। ২০২২ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে সেখানকার সিটি কাউন্সিলের সদস্য হন তিনি। এর জেরে প্রশাসনিক ক্ষমতা হাতে চলে আসে তাঁর।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, আর্কেডিয়ার সিটি কাউন্সিল চালায় পাঁচ সদস্যের একটি পরিচালন পর্ষদ। এই সদস্যদের প্রত্যেকেই পর্যায়ক্রমে মেয়রের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সংশ্লিষ্ট নিয়মের জেরে এ বছরের (২০২৬ সাল) ফেব্রুয়ারিতে ওই কুর্সি পান ওয়াং। তবে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে তিনি বেজিঙের তথ্য পাচার শুরু করেন, এমনটা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের অনুমান, দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁকে সামনে রেখে ঘাঁটি সাজিয়েছে চিন।
আমেরিকার ‘ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন’ বা এফবিআই সূত্রে খবর, রাজনৈতিক ক্ষমতা হাতে পেতে অত্যন্ত সন্তর্পণে আর্কেডিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রচার চালাতেন ওয়াং। চৈনিক জাতিসত্তাকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে দক্ষিণ ক্যালিফর্নিয়ার গণমাধ্যমগুলিতে প্রভাব খাটাতে থাকেন তিনি। ২০২০-’২২ সালের মধ্যে ‘ইউএস নিউজ় সেন্টার’ নামের একটি ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের এই সাবেক মেয়রের জড়িয়ে থাকার প্রমাণ মিলেছে।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারীদের দাবি, বছর ৬৫-র ইয়াওনিং মাইক সান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল গণমাধ্যমটি পরিচালনা করতেন ওয়াং, সম্পর্কে যিনি ছিলেন তাঁর বাগ্দত্তা। সাদা চোখে দেখলে মনে হত, নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম হিসাবে কাজ করছে ‘ইউএস নিউজ় সেন্টার’। আর্কেডিয়ায় বসবাসকারী চৈনিক আমেরিকানদের কথা তুলে ধরা তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই চলত বেজিঙের কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রচার।
কয়েকটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরেই শিনজিয়ান প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়ে আসছে চিন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেশ সরব আমেরিকার একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, একে পুরোপুরি অস্বীকার করে নিয়মিত সম্পূর্ণ অন্য ধাঁচের প্রবন্ধ প্রকাশ করত ওয়াং পরিচালিত ‘ইউএস নিউজ় সেন্টার’।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়লেই বেজিঙের হয়ে কলম ধরত আর্কেডিয়ার এই ডিজিটাল গণমাধ্যম। মার্কিন-চিন সংঘাতের সময়ও তাঁদের পাল্লা ঝুঁকে থাকত ড্রাগনভূমির দিকে। মান্দারিনভাষী রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কথাও ফলাও করে প্রচার করবেন ওয়াং। ফলে চৈনিক আমেরিকানদের মনে প্রভাব বিস্তার করতে তাঁর বেশি সময় লাগেনি।
আদালতে মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ‘উইচ্যাট’ মেসেজিং অ্যাপে চিনা সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন আর্কেডিয়ার সাবেক মেয়র। সেখানেই বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপের জন্য তাঁকে নির্দেশ পাঠাত বেজিং। আসত বিভিন্ন ধরনের এনক্রিপ্টেড লিঙ্ক, যেগুলিকে সরাসরি ‘ইউএস নিউজ় সেন্টার’-এ পাঠিয়ে দিতেন তিনি। এ ভাবেই দিনের পর দিন ডিজিটাল গণমাধ্যমের সাহায্যে মতাদর্শগত প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন ড্রাগনের গুপ্তচর ওয়াং।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারীদের অনুমান, আর্কেডিয়ায় সমস্ত সংবাদমাধ্যমগুলিকে তাঁদের ‘কণ্ঠস্বর’ করে তোলার ছক কষে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিসি। সেই লক্ষ্যে ওয়াং ও তাঁর বাগ্দত্তা মাইক সান যে অনেক দূর এগোতে সক্ষম হন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। গুপ্তচরবৃত্তির পরিভাষায় মিথ্যা প্রচারের এই ব্যবস্থার পোশাকি নাম ‘মতাদর্শগত অধিগ্রহণ’। এর মাধ্যমে মার্কিনি নাগরিকদের মগজের উপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছিল বেজিং।
এফবিআই সূত্রকে উদ্ধৃত করে ‘রয়টার্স’ জানিয়েছে, জন চিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন ওয়াং। বেজিঙের রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে তাঁর। মার্কিন গোয়েন্দাদের সন্দেহ, গুপ্তচরবৃত্তির যাবতীয় তথ্য সরাসরি ড্রাগনভূমির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে জানিয়ে থাকেন তিনি। যদিও জনের ব্যাপারে খুব বেশি তথ্য হাতে পাননি এফবিআইয়ের দুঁদে গোয়েন্দারা।
বিশ্লেষকদের দাবি, আমেরিকার ভিতরে একটা ‘মিনি চিন’ তৈরির উদ্দেশ্যেই ওয়াংয়ের মতো এজেন্টদের মাঠে নামিয়েছিল বেজিং। এ ভাবেই ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থার আরও অন্দরে ঢুকে পড়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে তারা। গোটা বিষয়টির নেপথ্যে ড্রাগনভূমির বিদেশ মন্ত্রক এবং গুপ্তচরসংস্থা ‘মিনিস্ট্রি অফ স্টেট সিকিউরিটি’ বা এমএসএসের হাত রয়েছে বলেও স্পষ্ট করেছেন তাঁরা।
আমেরিকার অন্দরে চিন এবং রাশিয়ার গুপ্তচরবৃত্তির ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে। ২০১০ সালে মস্কোর মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে বেশ কয়েক জন এজেন্টকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগ। ২০১৮ সালে তাঁদের জালে ধরা পড়েন মারিয়া গুটিনা নামের এক সুন্দরী রুশ তরুণী। এঁরা প্রত্যেকেই আমজনতার সঙ্গে মিশে ক্রেমলিনের হয়ে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
গত বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার পরই মার্কিন ভিসা নীতিতে বড় বদল আনেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ২৮ মে নতুন নিয়মের কথা ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। তিনি বলেন, ‘‘আগামী দিনে আক্রমণাত্মক ভাবে চিনা শিক্ষার্থীদের ভিসা বিপুল সংখ্যায় বাতিল করা হবে।’’ ফলে মান্দারিনভাষী যে ছাত্রছাত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। যদিও ওই পড়ুয়াদের ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
বিদেশসচিব রুবিয়ো জানিয়ে দেন, ড্রাগনভূমির যে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ‘কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না’ বা সিপিসির সামান্যতম যোগাযোগও রয়েছে, তাঁরা কোনও ভাবেই মার্কিন ভিসা পাবেন না। তাঁর ওই ঘোষণার পর মান্দারিনভাষী পড়ুয়াদের একাংশ এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) ‘সুদিন গিয়েছে’ বলে পোস্ট করতে থাকেন। অন্য দিকে, ট্রাম্পের এই ভিসা নীতির ভূয়সী প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি তাঁরই রিপাবলিকান পার্টির সতীর্থেরা।
কিন্তু গত বছরের ২৬ অগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে চিনা শিক্ষার্থীদের ভিসা বিলির প্রসঙ্গে বিস্ফোরক ঘোষণা করেন ট্রাম্প। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমি এ ব্যাপারে অনেক গল্প শুনেছি। আমরা নাকি ড্রাগনভূমির পড়ুয়াদের প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই যে সেটা হচ্ছে না। আমরা ওঁদের অনুমতি দেব। মোট ছ’লক্ষ শিক্ষার্থী ভিসা পাবেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে আমরা বেজিঙের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব।’’
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পরেই যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে পড়ে যায় শোরগোল। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কড়া সমালোচনায় বিঁধতে থাকেন তাঁরই দল রিপাবলিকান পার্টির নেতানেত্রীরা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন অতি ডানপন্থী লরা লুমার। সমাজমাধ্যমে করা পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘মনে রাখতে হবে চিনা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ওখানকার কমিউনিস্ট পার্টির গুপ্তচর। ওঁদের এখানে ঢুকতে দিলে জাতীয় নিরাপত্তার নিরিখে সেটা হবে মারাত্মক বিপজ্জনক।’’
বেজিঙের পড়ুয়াদের ‘স্টুডেন্ট ভিসা’র ব্যাপারে এখানেই চুপ করে থাকেননি লুমার। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতে ট্রাম্পের ওভাল অফিসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলারকে ট্যাগ করে আর একটি পোস্ট করেন তিনি। সেখানে রক্ষণশীল রিপাবলিকান নেত্রী লেখেন, ‘‘আমি আবারও বলছি, আমেরিকাবাসীদের কেউই পড়ুয়াদের ছদ্মবেশে আরও ছ’লক্ষ চিনের কমিউনিস্ট গুপ্তচর চায় না। ওরা আমাদের ১২ লক্ষ সহ-নাগরিককে হত্যা করেছে। তাঁদের জীবন কি কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে?’’
লুমারের এই অভিযোগ কিন্তু একেবারেই উড়িয়ে দেওয়ার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের নিরাপত্তা আধিকারিকদের বড় অংশই মনে করেন, উচ্চশিক্ষার নামে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি চুরি করার উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন ড্রাগনভূমির পড়ুয়ারা। তাঁদের মূল আনুগত্য রয়েছে ‘কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না’ বা সিপিসির প্রতি। আর তাই ট্রাম্প কড়া অবস্থান থেকে সরে আসতেই দেশ জুড়ে ওঠে সমালোচনার ঝড়।
দ্বিতীয়ত, মান্দারিনভাষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির একগুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীদের দাবি, বিদেশে পড়তে যাওয়া চিনা পড়ুয়াদের বাধ্যতামূলক ভাবে বেজিঙের বিশেষ একটি আইন মানতে হয়। তাতে বলা হয়েছে, যখনই সংশ্লিষ্ট দেশটির ব্যাপারে সিপিসি কোনও তথ্য জানাতে চাইবে, ওই ছাত্র বা ছাত্রী, তা সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবেন। এর ফলে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে লুমারের মতো রক্ষণশীল নেত্রীদের।
মার্কিন গোয়েন্দাদের আরও অভিযোগ, চিনা পড়ুয়াদের সঙ্গে ড্রাগন ফৌজ ‘পিপল্স লিবারেশন আর্মি’ বা পিএলএ এবং গুপ্তচর সংস্থা ‘মিনিস্ট্রি অফ স্টেট সিকিউরিটি’র (এমএসএস) ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে। বেজিং অবশ্য এই ধরনের তত্ত্বকে ‘মনগড়া কাহিনি’ বলে পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছিল।
এই ঘটনার এক বছরের মাথায় ওয়াংয়ের গুপ্তচরবৃত্তির খবর প্রকাশ্যে আসায় ট্রাম্প প্রশাসনের কপালের ভাঁজ যে আরও চওড়া হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। আর্কেডিয়ার সাবেক মেয়র ইস্তফা দেওয়ার পর পরই চিনসফর সেরে দেশে ফেরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বেজিংয়ে জিনপিঙের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয় তাঁর। সেখানে ওয়াংয়ের প্রসঙ্গ উঠেছে কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি।
অন্য দিকে মার্কিন আদালতে অভিযুক্ত চিনা এজেন্টের হয়ে সওয়াল করেছেন জেসন লিয়াং ও ব্রায়ান সান। এজলাসে তাঁরা বলেন, ‘‘এই ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন ওয়াং। আর্কেডিয়ার সিটি কাউন্সিলের অন্য কোনও কর্মী এই জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িত নয়।’’ এই পরিস্থিতিতে সাবেক মেয়রকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেলের সাজা শোনাতে পারে আমেরিকার ‘ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস’।