E-Paper

ইস্তাহারে ‘ঐতিহ্য’, তবে নথিতে ব্রাত্যই রাম সেতু

২০০৭ সালে ইউপিএ আমলের ‘সেতুসমুদ্রম জাহাজ চলাচল প্রকল্প’-কে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১০:২৩
রাম সেতু ।

রাম সেতু । ফাইল ছবি

আরটিআই আবেদনের জবাবে সম্প্রতি পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ জানিয়েছে যে, সরকারি নথিতে রাম সেতুর কোনও সুরক্ষা অথবা স্বীকৃতির কথা নেই। একে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন স্মৃতিসৌধ ঘোষণার কোনও প্রস্তাবও বর্তমানে দফতরের বিবেচনাধীন নয়। ২০০৭ সালে ইউপিএ সরকারের বিতর্কিত হলফনামা প্রত্যাহার থেকে বিজেপির একাধিক নির্বাচনীইস্তাহারে ‘জাতীয় ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি—রাম সেতু নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপড়েন দু’দশক ধরে চলে আসছে। কাঠামোটিকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়ে গত বছর কেন্দ্রকে নোটিসও দিয়েছেসুপ্রিম কোর্ট।

১৯৫৮ সালের ‘প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণ আইন’ অনুযায়ী, কোনও কাঠামোকে ‘জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন স্মৃতিসৌধ’ ঘোষণা করতে হলে তা অবশ্যই মানুষের তৈরি করা হতে হবে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাঝে বিস্তৃত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চুনাপাথরের শৃঙ্খলটির সঙ্গে অনেকের রামায়ণের রামচন্দ্রের লঙ্কা অভিযান সংক্রান্ত বিশ্বাস জড়িয়ে থাকলেও সরকারি নথিতে তা কেবল একটি প্রবাল শৈলশিরা।

২০০৭ সালে ইউপিএ আমলের ‘সেতুসমুদ্রম জাহাজ চলাচল প্রকল্প’-কে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাঝে সমুদ্রের তলদেশ খুঁড়ে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরির জন্য রাম সেতুর একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হলফনামায় জানিয়েছিল, রামায়ণকে অকাট্য ‘ঐতিহাসিক নথি’ হিসেবে গণ্য করা যায় না। রাম সেতু কোনও ‘মানবনির্মিত’ স্থাপত্য নয়, একটি প্রাকৃতিক ভৌগোলিক গঠন।

প্রবল বিতর্কের মধ্যে দু’দিনের মাথায় সেই হলফনামা প্রত্যাহার করে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের উচ্চপদস্থ দুই আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়। সরকার বলে, বিষয়টি তারা নতুন করে খতিয়ে দেখবে।

২০০৯ ও ২০১৪ সালে বিজেপি তাদের ইস্তাহারে রামসেতুকে জাতীয় ঐতিহ্য এবং কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তবে ক্ষমতায় আসার পরে, ২০২২ সালে বিজেপি সমর্থিত এক নির্দল সাংসদের প্রশ্নের জবাবে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই জায়গায় চুনাপাথরের স্তর বা দ্বীপসদৃশ গঠনের ধারাবাহিকতা লক্ষ করা গেলেও, ১৮ হাজার বছর আগেকার কোনও ‘মানুষের তৈরি সেতুর’ অস্তিত্ব বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণ করা কঠিন।

‘সেতুসমুদ্রম জাহাজ চলাচল প্রকল্প’-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে আসা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী শীর্ষ কোর্টে আবেদন করেছেন, রাম সেতুকে ‘জাতীয় ঐতিহ্য’ বা স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হোক। তাতে গত বছরের ২৯ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট নোটিস দিয়েছে সরকারকে।

এই আবহে আরটিআই আবেদনে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ‘প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণ আইন’-এর অধীনে রাম সেতুকে ‘কেন্দ্রীয় ভাবে সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে কি না, কোনও গেজেট বিজ্ঞপ্তি আছে কি না, কোনও সমীক্ষা বা বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ রয়েছে কি না।

জবাবে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের ‘মনুমেন্ট সেকশন’ স্পষ্ট করেছে, রাম সেতু তাদের এক্তিয়ারভুক্ত কোনও সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ নয় এবং একে এই মর্যাদা দেওয়ার কোনও প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলছে না। প্রসঙ্গত, আশির দশকে দ্বারকায় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ যে ভাবে সমুদ্রতলে খননকার্য চালিয়ে স্থাপত্যের প্রমাণ উদ্ধার করেছিল, রাম সেতুর ক্ষেত্রে সেই ধরনের কোনও বড় মাপের বৈজ্ঞানিক তৎপরতা বা বাজেট বরাদ্দও গত কয়েক বছরেদেখা যায়নি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Manifesto

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy