Advertisement
E-Paper

হর্নবিলে বিক্রি বন্যপ্রাণীর মাংস, ক্ষোভ

পর্যটন ও সংরক্ষণকে উৎসাহ দিতেই উৎসব। ভক্ষক থেকে রক্ষক হয়ে উঠে আমুর সংরক্ষণে বিশ্বজুড়ে নাম কুড়িয়েছে নাগাল্যান্ড। কিন্তু সেখানকারই সব চেয়ে বড় উৎসব হর্নবিলে বিক্রি হয়েঠে বন্যপ্রাণীর মাংস। তা নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে পশুপ্রেমীদের মধ্যে।

রাজীবাক্ষ রক্ষিত

শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৬ ০৩:১২
উপজাতি নাচের ছন্দে। হর্নবিল উৎসবে। তিয়াষ মুখোপাধ্যায়ের তোলা ছবি।

উপজাতি নাচের ছন্দে। হর্নবিল উৎসবে। তিয়াষ মুখোপাধ্যায়ের তোলা ছবি।

পর্যটন ও সংরক্ষণকে উৎসাহ দিতেই উৎসব। ভক্ষক থেকে রক্ষক হয়ে উঠে আমুর সংরক্ষণে বিশ্বজুড়ে নাম কুড়িয়েছে নাগাল্যান্ড। কিন্তু সেখানকারই সব চেয়ে বড় উৎসব হর্নবিলে বিক্রি হয়েঠে বন্যপ্রাণীর মাংস। তা নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে পশুপ্রেমীদের মধ্যে।

মণিপুরে সাঙ্গাই উৎসবে যেমন সাঙ্গাই হরিণের মাংস বিক্রি হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, তেমনই সংরক্ষণে নাম ছড়ানো নাগাল্যান্ডের হর্নবিল উৎসবে চোখে পড়ল দোকানে দোকানে পাখি, কাঠবিড়ালি, হরিণ ও বুনো শুয়োরের মাংস। শিকার নাগাদের ঐতিহ্য বলে গণ্য করা হয়। সেই সঙ্গে পাহাড়-জঙ্গলে থাকা নাগাদের অনেক উপজাতিই খাদ্যের জন্য শিকারের উপরে নির্ভর করে। কিন্তু রাজ্য সরকার আইন করে শিকার নিষিদ্ধ করেছে। সরকার ও পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির উদ্যোগে সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতাও বেড়েছে। আগে নাগারা রাস্তাঘাটে পশু দেখলেই মেরে খেয়ে ফেলতেন, এখন তা উদ্ধার করে চিড়িয়াখানায় জমা দিচ্ছেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, চিড়িয়াখানায় উদ্ধার হওয়া হরিণ, সাপ, শুয়োর রাখার জায়গা নেই।

কিন্তু হর্নবিল উৎসবে কিসামা গ্রামে যে স্টলগুলি বসেছিল, সেখানে টাকা ফেললেই মিলেছে গরমাগরম বন্যপ্রাণীর মাংস। শিকার করা প্রাণীর মাংস এসেছে নাগাল্যান্ডের পেরেন ও মণিপুরের সেনাপতি জেলা থেকে। এক প্লেট বুনো শুয়োরের মাংসের দাম ২০০ টাকা। সঙ্গে ‘জু’ মদ ১০০ টাকা। কয়েক দিনে বন দফতরের কোনও প্রতিনিধি সে সব দোকানে আসেননি। নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জেনেও বিক্রেতারা জানান, এটা ব্যবসার সময়। মেলার মাঠে রোজগার না হলে চলবে না।

বন্যপ্রাণীর মাংস বিক্রি ও শিকার বন্ধের জন্য আর্জি জানিয়েছে নাগাল্যান্ড ব্যাপটিস্ট গির্জা পরিষদ। আঙ্গামি যুব সংগঠনও কাউকে শিকার করতে দেখলেই শাস্তি দিচ্ছে। নিষিদ্ধ হয়েছে গাছ কাটাও। রাজ্যে এয়ারগান নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে তারা। কিন্তু হর্নবিলের দোকান মালিকদের মতে, বছরের অন্য সময় নিষেধাজ্ঞা মানলেও নোট বাতিল পরবর্তী পর্বে অনেকেই শিকার করে খাচ্ছেন। আর স্টলে অন্য মাংসের চেয়ে এই মাংসের চাহিদা বেশি। তাই এই সুযোগে হাতে টাকা এলে সংসারের মঙ্গল।

এমনিতেই নোট বাতিলের ধাক্কায় এ বারের হর্নবিল উৎসবে ব্যবসা মার খেয়েছে। নাগা হস্তশিল্প, কন্যাক উপজাতির বাঁশ খোদাই, নাগা চাদরের চাহিদা এ বারও বেশি ছিল। কিন্তু ছিল না ক্রেতা।

Hornbill festival Nagaland wildlife meat
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy